ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ইরানের অবস্থানকে দুর্বল করবে: ইরানি আইনপ্রণেতা Logo ‘আবুল মনসুর আহমদের পূর্ব বাংলা’ চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে Logo ১০ লিটার জ্বালানিতে ৫৩০ মিলিলিটার কম, যাত্রাবাড়ীতে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করল বিএসটিআই Logo একনেকে উঠছে ১৮ হাজার কোটি টাকার ১৬ প্রকল্প Logo জরিমানা-নিষেধাজ্ঞার পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের স্মরণে অটল এনএফএল খেলোয়াড় Logo বিশ্ব হার্ট দিবস আজ: হৃদ্‌রোগের পর ওষুধ নেননি ঝুঁকিতে থাকাদের ৭৭ শতাংশ Logo ফিরেই বিটিএসের বাজিমাত, ইতিহাস গড়লেন লিসা Logo তুরস্ককে উড়িয়ে জয়ে ফিরল ইতালি Logo কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সাবেক এমপির বাসা থেকে ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার Logo ‘ভয়ংকর’ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: নীতিমালা নেই, ইচ্ছেমতো ফি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় বিভাগভেদে ফি আদায়ের ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। বিভিন্ন বিভাগে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি থেকে শুরু করে মানোন্নয়ন পরীক্ষার ফি পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে ইচ্ছেমতো। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে ফি নেওয়ার এই তারতম্যের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ১২টি অনুষদের অধীনে মোট ৫৯টি বিভাগ রয়েছে এবং প্রায় প্রতিটি বিভাগই নিজেদের মতো করে বিভিন্ন খাতের ফি নির্ধারণ করে আসছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিভিন্ন বিভাগের ফরম পূরণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তত্ত্বীয় পরীক্ষার ফি কোথাও ৫০ টাকা আবার কোথাও ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষার জন্য অধিকাংশ বিভাগ ৫০ টাকা করে ফি নিলেও ব্যবহারিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিছু বিভাগে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ঘণ্টাপ্রতি ২০ টাকা নেওয়া হলেও চারুকলা অনুষদে এই ফি নেওয়া হয় ঘণ্টাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত। আবার কোনো কোনো বিভাগে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার ফি বাবদ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এর বাইরে বিভাগীয় উন্নয়ন ফি, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সমিতির নামেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

নন-কলেজিয়েট ও ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগের বিষয়টিও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো বিভাগ ১০০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছে। এমনকি ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার মতো অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে ফাইন্যান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট জানা নেই। অন্যদিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত ফি আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন পরীক্ষা থেকে নিরুৎসাহিত করতেই এই ফি কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রধান অধ্যাপক হাসনাত কবির জানান, সাধারণত কোর্সের ধরন এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে কি না— এসব বিষয় বিবেচনা করেই বিভাগগুলো পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে থাকে। তবে এই লাগামহীন ফি আদায়ের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন মহले সমালোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবসায় অনুষদের ডিনের দায়িত্বে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো বিভাগে নিয়মের বাইরে কিছু হয়ে থাকলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ইরানের অবস্থানকে দুর্বল করবে: ইরানি আইনপ্রণেতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: নীতিমালা নেই, ইচ্ছেমতো ফি

প্রকাশিত ০৩:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ ও বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় বিভাগভেদে ফি আদায়ের ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। বিভিন্ন বিভাগে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি থেকে শুরু করে মানোন্নয়ন পরীক্ষার ফি পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে ইচ্ছেমতো। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে ফি নেওয়ার এই তারতম্যের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ১২টি অনুষদের অধীনে মোট ৫৯টি বিভাগ রয়েছে এবং প্রায় প্রতিটি বিভাগই নিজেদের মতো করে বিভিন্ন খাতের ফি নির্ধারণ করে আসছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিভিন্ন বিভাগের ফরম পূরণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তত্ত্বীয় পরীক্ষার ফি কোথাও ৫০ টাকা আবার কোথাও ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষার জন্য অধিকাংশ বিভাগ ৫০ টাকা করে ফি নিলেও ব্যবহারিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিছু বিভাগে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ঘণ্টাপ্রতি ২০ টাকা নেওয়া হলেও চারুকলা অনুষদে এই ফি নেওয়া হয় ঘণ্টাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত। আবার কোনো কোনো বিভাগে সম্পূর্ণ প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার ফি বাবদ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এর বাইরে বিভাগীয় উন্নয়ন ফি, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সমিতির নামেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

নন-কলেজিয়েট ও ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগের বিষয়টিও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো বিভাগ ১০০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছে। এমনকি ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার মতো অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে ফাইন্যান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট জানা নেই। অন্যদিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত ফি আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন পরীক্ষা থেকে নিরুৎসাহিত করতেই এই ফি কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রধান অধ্যাপক হাসনাত কবির জানান, সাধারণত কোর্সের ধরন এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে কি না— এসব বিষয় বিবেচনা করেই বিভাগগুলো পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে থাকে। তবে এই লাগামহীন ফি আদায়ের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন মহले সমালোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবসায় অনুষদের ডিনের দায়িত্বে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো বিভাগে নিয়মের বাইরে কিছু হয়ে থাকলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।