ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo দুই দিনে সাতজনকে হত্যা, মণিপুরে কুকি ও নাগা গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা বাড়ছে কেন? Logo অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে দোকানে ঢুকে পড়ল ট্রাক, নিহত ৪ Logo খুঁটিতে বাঁধা বাবাকে চা-রুটি খাওয়ানো সেই শিশুর পড়াশোনার দায়িত্ব নিল প্রশাসন Logo সর্বকালের সর্বনিম্নে ইরানি মুদ্রার মান, ১ ডলারে ২৪ লাখ রিয়াল Logo হাসিনাকে ‘শুভ জন্মদিন আপা’ লিখে বহিষ্কার, ছাত্রশক্তি নেতাকে পুলিশে সোপর্দ Logo এবার ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট Logo প্রবাসী প্রতিবেশীর সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দিলেন নিজেই, পরে মিলল ঝুলন্ত মরদেহ Logo মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নিহত ৫, তিন ভাইবোনের পর বাবার লাশ উদ্ধার Logo একদিনে হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু; আক্রান্ত ১৩১০ Logo ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি সরকার পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন’

সর্বকালের সর্বনিম্নে ইরানি মুদ্রার মান, ১ ডলারে ২৪ লাখ রিয়াল

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান। এর ফলে দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান ইতিহাসের সবচেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। মুক্তবাজারে ডলারের তুলনায় এই নজিরবিহীন দরপতনের কারণে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এই মুদ্রাস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইরানের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের বিভিন্ন গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট পাসিজি ডটকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উন্মুক্ত বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান অভূতপূর্বভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে প্রতি এক মার্কিন ডলার বিক্রি হয়েছে রেকর্ড চব্বিশ লাখ রিয়াল দামে। এর আগে ডলারের দর তেইশ লাখ রিয়ালের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করলেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানি মুদ্রার এই দ্রুত অবমূল্যায়ন ঘটছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দেশটির ওপর ওয়াশিংটনের আরোপ করা কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি ইরানের অর্থনৈতিক খাতকে লক্ষ্য করে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে রিয়ালের ওপর চাপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

এদিকে ইরানে মুদ্রাস্ফীতির হার চরম আকার ধারণ করায় সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি একষট্টি শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং সরকারি হিসাব অনুযায়ী এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আয় সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

চলমান এই সংকট মোকাবিলা করার জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুক্তবাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে মুদ্রার এই অবরূদ্ধ পরিস্থিতি এবং অব্যাহত দরপতন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না এলে ভবিষ্যতে জনজীবন আরও বেশি বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

দুই দিনে সাতজনকে হত্যা, মণিপুরে কুকি ও নাগা গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংসতা বাড়ছে কেন?

সর্বকালের সর্বনিম্নে ইরানি মুদ্রার মান, ১ ডলারে ২৪ লাখ রিয়াল

প্রকাশিত ০৫:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান। এর ফলে দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান ইতিহাসের সবচেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। মুক্তবাজারে ডলারের তুলনায় এই নজিরবিহীন দরপতনের কারণে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এই মুদ্রাস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইরানের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের বিভিন্ন গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট পাসিজি ডটকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উন্মুক্ত বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান অভূতপূর্বভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে প্রতি এক মার্কিন ডলার বিক্রি হয়েছে রেকর্ড চব্বিশ লাখ রিয়াল দামে। এর আগে ডলারের দর তেইশ লাখ রিয়ালের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করলেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানি মুদ্রার এই দ্রুত অবমূল্যায়ন ঘটছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দেশটির ওপর ওয়াশিংটনের আরোপ করা কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি ইরানের অর্থনৈতিক খাতকে লক্ষ্য করে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে রিয়ালের ওপর চাপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

এদিকে ইরানে মুদ্রাস্ফীতির হার চরম আকার ধারণ করায় সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি একষট্টি শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং সরকারি হিসাব অনুযায়ী এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আয় সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

চলমান এই সংকট মোকাবিলা করার জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুক্তবাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে মুদ্রার এই অবরূদ্ধ পরিস্থিতি এবং অব্যাহত দরপতন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না এলে ভবিষ্যতে জনজীবন আরও বেশি বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।