ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইতিহাসে প্রথম এক্সোপ্ল্যানেট থেকে রেডিও সংকেত পাওয়া গেল Logo মরুভূমিতে বিয়েতে ১৪০০ ভেড়া-ছাগল ও ২৭০ উট জবাই Logo ২৩ বছর পর শেষ মার্কিন সেনাটিও ইরাক ছাড়ছে, ৪ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা Logo নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফর ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের খবর নিশ্চিত করল আমিরাত Logo নদীর স্রোতের ওপর টানানো সরু দড়ি বেয়ে হেঁটে ১০০ মিটার পাড়ি দিলেন শি Logo পত্রিকা:‌ ”অপারেশন ক্লিন হার্টের’ আদলে অভিযানের চিন্তা’ Logo মাঠে না নেমেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ Logo এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তায় গুগল, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের উদ্যোগ Logo সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার নেপথ্যের ব্যক্তিরা এখনো ধরা পড়েননি Logo জাপানে বর্মযুক্ত ডাইনোসরের জীবাশ্ম শনাক্ত

নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফর ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের খবর নিশ্চিত করল আমিরাত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর ও দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আবুধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এই গোপন সফরের খবর প্রকাশিত হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ওয়াম নামক সরকারি আমিরাতি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই বিদেশ সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই সফরের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত এবং এর পেছনের নানা কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে এই দুই মধ্যপ্রাচ্যের দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তার নানা সমীকরণের মাঝে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বৈঠকে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলার আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, হামলার প্রায় ১০ দিন আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে হামাসের সম্ভাব্য বড় হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এমনকি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকেও এই বিষয়ে জানানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই দাবি কঠোরভাবে নাকচ করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মনগড়া বলে অভিহিত করা হয়েছে। নেতানিয়াহু এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

অপরদিকে, নেতানিয়াহুর এই সফরের খবর প্রকাশ্যে আসায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যপদ্ধতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর গোপনীয় সফর সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় তারা সামরিক সেন্সরের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ফলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হয়েছে। আগামী অক্টোবরের কনেসেট নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু যখন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক তখনই এই নিরাপত্তা বিতর্ক ও গোপন সফরের খবর তার জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। জনমত জরিপে প্রতিপক্ষদের তুলনায় পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন, এখন সেদিকেই নজর সবার।

জনপ্রিয়

ইতিহাসে প্রথম এক্সোপ্ল্যানেট থেকে রেডিও সংকেত পাওয়া গেল

নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফর ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের খবর নিশ্চিত করল আমিরাত

প্রকাশিত ০৯:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর ও দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আবুধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এই গোপন সফরের খবর প্রকাশিত হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ওয়াম নামক সরকারি আমিরাতি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই বিদেশ সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই সফরের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত এবং এর পেছনের নানা কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে এই দুই মধ্যপ্রাচ্যের দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তার নানা সমীকরণের মাঝে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বৈঠকে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলার আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, হামলার প্রায় ১০ দিন আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে হামাসের সম্ভাব্য বড় হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এমনকি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকেও এই বিষয়ে জানানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই দাবি কঠোরভাবে নাকচ করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মনগড়া বলে অভিহিত করা হয়েছে। নেতানিয়াহু এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

অপরদিকে, নেতানিয়াহুর এই সফরের খবর প্রকাশ্যে আসায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যপদ্ধতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর গোপনীয় সফর সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় তারা সামরিক সেন্সরের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ফলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হয়েছে। আগামী অক্টোবরের কনেসেট নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু যখন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক তখনই এই নিরাপত্তা বিতর্ক ও গোপন সফরের খবর তার জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। জনমত জরিপে প্রতিপক্ষদের তুলনায় পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন, এখন সেদিকেই নজর সবার।