ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ভাইরাল মিজানের ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাতের দোকান আবার উচ্ছেদ Logo বিশ্বের সবচেয়ে শব্দদূষণকারী দুই পাখির সন্ধান Logo কমলনগর উপজেলা মহিলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির প্রতিনিধি হলেন দেলোয়ার হোসেন মানিক Logo নোবিপ্রবিতে চালু হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার Logo গোবিপ্রবিতে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন Logo ম্যান সিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করল প্রিমিয়ার লিগ Logo দেশে প্রথম প্ল্যানটেইন থেকে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনে বাকৃবির সাফল্য Logo থার্ড টার্মিনালের ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তারিক সিদ্দিককে দুদকে তলব Logo কোটি মানুষের খাদ্য জোগাতে পারে এই ‘মিথ্যা কলা’ গাছ Logo মাদ্রাসার ছাদে দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থীর একজনের মৃত্যু

বিশ্বের সবচেয়ে শব্দদূষণকারী দুই পাখির সন্ধান

প্রকৃতির মাঝে উচ্চস্বরে ডাকতে পারা দুটি নতুন পাখির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের একদল বিজ্ঞানী এই গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ড এবং রেড-লেগড সিরিমা নামের পাখি দুটি ১২০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতায় ডাকতে সক্ষম। রাস্তাঘাট খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত জ্যাকহ্যামার যন্ত্রের শব্দের সঙ্গে এই প্রাণীদের ডাকের তীব্রতার বেশ মিল রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে হোয়াইট বেলবার্ডের ডাক সর্বোচ্চ ১২৫ ডেসিবেল রেকর্ড করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি মিলেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই গবেষণা বলছে, সবচেয়ে জোরালো ডাকের পাখি কোনটি হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে শব্দ পরিমাপের পদ্ধতির ওপর।

প্রখ্যাত ইভল্যুশন সাময়িকীতে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার সহলেখক ও বিবর্তনবিষয়ক জীববিজ্ঞানী জোয়াও সি টি মেনেজেস জানান, দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত জ্যাকহ্যামারের শব্দের কাছাকাছি প্রকৃতির এই পাখিদের ডাক। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ডের ডাক এক মিটার দূরত্ব থেকে পরিমাপ করলে সর্বোচ্চ প্রায় ১৩১ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, ২০ মিলিসেকেন্ড সময়ের গড় হিসাব অনুযায়ী রেড-লেগড সিরিমার ডাকের তীব্রতা প্রায় ১২১ ডেসিবেল। এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে প্রাণিকুলের শব্দক্ষমতার পরিসর কতটা বিস্ময়কর হতে পারে।

গবেষণা দলটি নির্দিষ্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে মোট ১২৩ প্রজাতির পাখির ডাক রেকর্ড করেন। এর মধ্যে ১১৩ প্রজাতির পাখির ডাক এর আগে কখনোই রেকর্ড করা হয়নি। সাধারণত বন্য পরিবেশে পাখির শব্দের সঠিক মাত্রা নির্ণয় করা অত্যন্ত দুরূহ একটি কাজ, কারণ রেকর্ডিং যন্ত্রের সঙ্গে পাখির দূরত্বের তারতম্যের ওপর ফলাফল নির্ভর করে। এই সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানীরা লেজার রেঞ্জফাইন্ডার ব্যবহার করেন, যার সাহায্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পাখির দূরত্ব এবং শব্দের মাত্রা একই সঙ্গে পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে সাধারণত তুলনামূলক বড় আকারের পাখি এবং যাদের ঠোঁট বেশি প্রশস্ত, তারা অনেক বেশি জোরে ডাকতে পারে। বড় আকৃতির পাখিদের শক্তিশালী শরীর ও পেশি উচ্চ চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা তীব্র শব্দ উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে প্রশস্ত ঠোঁট বা মুখ সেই শক্তিশালী শব্দকে বাইরের পরিবেশে সহজে ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। তবে এর মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রমী বিষয় বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। কিছু ক্ষুদ্রাকৃতির পাখি হাতি কিংবা বাইসনের মতো বিশালাকার প্রাণীর চেয়েও অনেক বেশি জোরালো শব্দ করতে পারে, যা গবেষকদের মনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পাখিদের এই উচ্চমাত্রার শব্দ উৎপাদনের পেছনে ঠিক কী ধরনের জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করে, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন জীববিজ্ঞানীরা। পাখির ডাকের বিবর্তন এবং এর পেছনে পরিবেশগত কী ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির শব্দ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হলে এই তালিকায় নতুন অনেক পাখির নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাণীজগতের শব্দবৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

জনপ্রিয়

ভাইরাল মিজানের ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাতের দোকান আবার উচ্ছেদ

বিশ্বের সবচেয়ে শব্দদূষণকারী দুই পাখির সন্ধান

প্রকাশিত ১১:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকৃতির মাঝে উচ্চস্বরে ডাকতে পারা দুটি নতুন পাখির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের একদল বিজ্ঞানী এই গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ড এবং রেড-লেগড সিরিমা নামের পাখি দুটি ১২০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতায় ডাকতে সক্ষম। রাস্তাঘাট খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত জ্যাকহ্যামার যন্ত্রের শব্দের সঙ্গে এই প্রাণীদের ডাকের তীব্রতার বেশ মিল রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে হোয়াইট বেলবার্ডের ডাক সর্বোচ্চ ১২৫ ডেসিবেল রেকর্ড করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি মিলেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই গবেষণা বলছে, সবচেয়ে জোরালো ডাকের পাখি কোনটি হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে শব্দ পরিমাপের পদ্ধতির ওপর।

প্রখ্যাত ইভল্যুশন সাময়িকীতে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার সহলেখক ও বিবর্তনবিষয়ক জীববিজ্ঞানী জোয়াও সি টি মেনেজেস জানান, দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত জ্যাকহ্যামারের শব্দের কাছাকাছি প্রকৃতির এই পাখিদের ডাক। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ডের ডাক এক মিটার দূরত্ব থেকে পরিমাপ করলে সর্বোচ্চ প্রায় ১৩১ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, ২০ মিলিসেকেন্ড সময়ের গড় হিসাব অনুযায়ী রেড-লেগড সিরিমার ডাকের তীব্রতা প্রায় ১২১ ডেসিবেল। এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে প্রাণিকুলের শব্দক্ষমতার পরিসর কতটা বিস্ময়কর হতে পারে।

গবেষণা দলটি নির্দিষ্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে মোট ১২৩ প্রজাতির পাখির ডাক রেকর্ড করেন। এর মধ্যে ১১৩ প্রজাতির পাখির ডাক এর আগে কখনোই রেকর্ড করা হয়নি। সাধারণত বন্য পরিবেশে পাখির শব্দের সঠিক মাত্রা নির্ণয় করা অত্যন্ত দুরূহ একটি কাজ, কারণ রেকর্ডিং যন্ত্রের সঙ্গে পাখির দূরত্বের তারতম্যের ওপর ফলাফল নির্ভর করে। এই সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানীরা লেজার রেঞ্জফাইন্ডার ব্যবহার করেন, যার সাহায্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পাখির দূরত্ব এবং শব্দের মাত্রা একই সঙ্গে পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে সাধারণত তুলনামূলক বড় আকারের পাখি এবং যাদের ঠোঁট বেশি প্রশস্ত, তারা অনেক বেশি জোরে ডাকতে পারে। বড় আকৃতির পাখিদের শক্তিশালী শরীর ও পেশি উচ্চ চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা তীব্র শব্দ উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে প্রশস্ত ঠোঁট বা মুখ সেই শক্তিশালী শব্দকে বাইরের পরিবেশে সহজে ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে। তবে এর মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রমী বিষয় বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। কিছু ক্ষুদ্রাকৃতির পাখি হাতি কিংবা বাইসনের মতো বিশালাকার প্রাণীর চেয়েও অনেক বেশি জোরালো শব্দ করতে পারে, যা গবেষকদের মনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পাখিদের এই উচ্চমাত্রার শব্দ উৎপাদনের পেছনে ঠিক কী ধরনের জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করে, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন জীববিজ্ঞানীরা। পাখির ডাকের বিবর্তন এবং এর পেছনে পরিবেশগত কী ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির শব্দ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হলে এই তালিকায় নতুন অনেক পাখির নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাণীজগতের শব্দবৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।