দেশের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে পরামর্শক খাতে অতিরিক্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির অর্থাৎ একনেক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভা শেষে রাজধানী ঢাকার এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এই বিষয়ে বিস্তারিত গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়সীমা ও সুনির্দিষ্ট বাজেটের ভেতরেই সকল নতুন ও চলমান প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা এবং কালক্ষেপণ বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদকাল বৃদ্ধি করা যাবে না এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায়ভার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে নিতে হবে। এখন থেকে প্রকল্পের সময় বাড়ানোর যেকোনো আবেদন কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এর জন্য যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া কেবল দায়সারাগোছের আনুষ্ঠানিকতা পালনের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রচলিত সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে অধিকতর কারিগরি নির্ভুলতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
একনেক সভায় প্রশাসনিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প তদন্তের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যশোর, সৈয়দপুর এবং শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত করার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান যে, বিগত বছরগুলোতে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির করা বাজেট সমন্বয় যথাযথভাবে ডিপিপিতে প্রতিফলিত না হওয়ায় এই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ বা আইএমইডি বেশ কিছু প্রকল্পের তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। রংপুর অঞ্চলের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য বড় অঙ্কের একটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পাশাপাশি, ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বড় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অটোমেশনের আওতায় এনে আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। এসব পদক্ষেপের ফলে আর্থিক খাতের অনিয়ম রোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা সঠিক উপায়ে বিতরণ করা অনেক সহজতর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।





































