ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‘মিছিলে তো আমার জন্যই আইছত’ কিশোর গ্যাং লিডারের সঙ্গে ছাত্রদল নেতার ভিডিও ভাইরাল Logo প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেল মরক্কো, সামনে যত চ্যালেঞ্জ Logo ট্রাংক কেটে কর্মকর্তার চেম্বারের ফটোকপি, অন্তর্বাসে পাচার, বিভিন্ন স্থানে কম্পোজ Logo হামলা–ভাঙচুর–দখলের ঘটনায় বিব্রত সরকার Logo জেলা-উপজেলায় চালু হচ্ছে চাকরির নতুন ব্যবস্থা, যেভাবে পাবেন সব তথ্য Logo ইয়ামাল ম্যাজিকে ক্রোয়েশিয়াকে ধসিয়ে দিল স্পেন Logo রাশিয়ায় পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬ Logo হৃৎপিণ্ডের প্রতীক এল কোথা থেকে, দেখতে এটি হৃৎপিণ্ডের মতো নয় কেন Logo উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ Logo পত্রিকা: ‘অপরাধে জড়ালে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না’

ট্রাংক কেটে কর্মকর্তার চেম্বারের ফটোকপি, অন্তর্বাসে পাচার, বিভিন্ন স্থানে কম্পোজ

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত একটি বিশাল চক্রের সন্ধান পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে গড়ে ওঠা এই অপরাধ নেটওয়ার্কের মূল সমন্বয়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীকে। তদন্তে নেমে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি মুদ্রণালয়ের কর্মী এবং একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের মধ্যকার যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই অভিনব প্রক্রিয়ায় পিএসসির ভেতরের অতি গোপনীয়তা ভেঙে প্রশ্ন সংগ্রহ করা হতো। এরপর তা বিভিন্ন স্থানে কম্পিউটার কম্পোজ করে পুনরুৎপাদন করা হতো। বিজি প্রেসের কিছু অসাধু কর্মীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় এসব গোপন নথি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বাইরে নিয়ে আসা হতো, যা পরে চক্রের বিভিন্ন সদস্য ও দালালদের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হতো।

তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডি জানতে পেরেছে যে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই প্রশ্নপত্রগুলো পিএসসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষের স্টিলের ট্রাংক কেটে বা তালা ভেঙে ফটোকপি করা হতো। নিরাপত্তার কঠোর নজরদারি এড়াতে চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অদ্ভুত সব পদ্ধতি অবলম্বন করত, যার মধ্যে প্রশ্নপত্র অন্তর্বাসের ভেতরে লুকিয়ে পাচার করার মতো ঘটনাও রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির এমন নজিরবিহীন ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, পিএসসির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পেশ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

‘মিছিলে তো আমার জন্যই আইছত’ কিশোর গ্যাং লিডারের সঙ্গে ছাত্রদল নেতার ভিডিও ভাইরাল

ট্রাংক কেটে কর্মকর্তার চেম্বারের ফটোকপি, অন্তর্বাসে পাচার, বিভিন্ন স্থানে কম্পোজ

প্রকাশিত ১১:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত একটি বিশাল চক্রের সন্ধান পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে গড়ে ওঠা এই অপরাধ নেটওয়ার্কের মূল সমন্বয়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীকে। তদন্তে নেমে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি মুদ্রণালয়ের কর্মী এবং একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের মধ্যকার যোগসাজশের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই অভিনব প্রক্রিয়ায় পিএসসির ভেতরের অতি গোপনীয়তা ভেঙে প্রশ্ন সংগ্রহ করা হতো। এরপর তা বিভিন্ন স্থানে কম্পিউটার কম্পোজ করে পুনরুৎপাদন করা হতো। বিজি প্রেসের কিছু অসাধু কর্মীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় এসব গোপন নথি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বাইরে নিয়ে আসা হতো, যা পরে চক্রের বিভিন্ন সদস্য ও দালালদের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হতো।

তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডি জানতে পেরেছে যে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই প্রশ্নপত্রগুলো পিএসসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষের স্টিলের ট্রাংক কেটে বা তালা ভেঙে ফটোকপি করা হতো। নিরাপত্তার কঠোর নজরদারি এড়াতে চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অদ্ভুত সব পদ্ধতি অবলম্বন করত, যার মধ্যে প্রশ্নপত্র অন্তর্বাসের ভেতরে লুকিয়ে পাচার করার মতো ঘটনাও রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির এমন নজিরবিহীন ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, পিএসসির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পেশ করা হয়েছে।