খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযুক্ত এই তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিনের স্বাক্ষর করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মাদকবিরোধী অবস্থান কঠোর করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সন্ধ্যায় ছাত্রবিষয়ক দপ্তরের নিয়মিত নিরাপত্তা টহলের সময় ৪ নম্বর একাডেমিক ভবন এলাকা থেকে ওই তিন শিক্ষার্থীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের তল্লাশি করে গাঁজা উদ্ধার করেন দপ্তরের দায়িত্বরত সদস্যরা। আটককৃত শিক্ষার্থীরা হলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী রিয়াজুস ছলেহীন, তৌফিক আলম ও মুশফিক উল ইসলাম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো একটি পবিত্র স্থানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ধারা ৬(খ) এবং ২৪ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের এই সাময়িক বহিষ্কারাদেশ ও আর্থিক জরিমানা কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক এহসান মজিদ মোস্তফাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারসহ অন্যান্য বড় শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, নিয়মিত নিরাপত্তা টহল চলাকালে ওই তিন শিক্ষার্থীকে মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির চূড়ান্ত সভায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।





































