প্রযুক্তি ডেস্ক: জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে একটি হ্যাকার দল। সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও ডার্ক ওয়েবের তথ্যানুযায়ী, ওই চক্রের কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট ডিজিটাল তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবহারকারীদের মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বাসার ঠিকানার মতো সংবেদনশীল তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হঠাৎ করেই গত অক্টোবরের শুরুর দিকে পাঠাওয়ের ডিজিটাল সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়। সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্ল্যাটফর্মটির কতৃপক্ষ ঝুঁকি এড়াতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলো সাময়িকভাবে অফলাইনে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে দ্রুত সেবা সচল করা হলেও সিস্টেম পুরোপুরি স্থিতিশীল করতে এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলীরা, যার ফলে ব্যবহারকারীরা মাঝেমধ্যে কিছু কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
তথ্য চুরির এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পাঠাও কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে আংশিক সত্যতা স্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, দুষ্কৃতকারীরা সাইবার হামলার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বরের মতো কিছু ব্যক্তিগত তথ্য অ্যাকসেস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ঘটনাটি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং সিস্টেমের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করা হয়েছে।
এদিকে হ্যাকার গোষ্ঠীটি ওই বিপুল পরিমাণ তথ্য ফাঁস না করার শর্তে পাঠাওয়ের কাছে চার লাখ মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করা না হলে ব্যবহারকারীদের এনআইডি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, কর্মী এবং প্রশাসনিক তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সাইবার বিশেষজ্ঞরা।





































