রাজনীতি ডেস্ক: রাজনীতি কেবল ক্ষমতা দখলের মাধ্যম নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় এবং তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি পবিত্র দায়িত্ব। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনের অফিসকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অভিমত ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি তিনি খান ফাউন্ডেশনের নতুন ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী নির্বাচনী সংস্কৃতির নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে অর্থ খরচের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করার জোর দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, জনপ্রতিনিধি হওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় হলেও বড় অংকের অর্থ ব্যয় করে বা আপ্যায়নের মাধ্যমে ভোট চাওয়ার পুরনো প্রবণতা বদলাতে হবে। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন যে, গত সাড়ে তিন দশক ধরে তিনি একই আদর্শ ধারণ করে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করে আসছেন। জনসেবার ব্রত ছাড়া রাজনীতি কখনোই সঠিক পথে এগোতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তৃণমূল গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মঈন খান জানান যে, স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র সুসংহত না হলে জাতীয় স্তরেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার সাধন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং পাঁচ স্তরে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন। জনগণ যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া, স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন যে, এতে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় দ্বন্দ্ব ও হিংসা-বিদ্বেষ হ্রাস পাবে এবং উন্নয়নের স্বার্থে সবাই একযোগে কাজ করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন যে, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। সভায় দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার এনজিওগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং খান ফাউন্ডেশনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


































