ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কুবিতে প্রথম জাতীয় বিতর্ক উৎসবের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় সম্পন্ন Logo চিকিৎসায় অব্যাবস্থাপনার অভিযোগে রাবি মেডিকেলে তালা Logo দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের দুই নেতার পদ স্থগিত Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ Logo নবীনদের বরণে হাবিপ্রবি, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে মন্ত্রীর আহ্বান Logo জাবিতে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি Logo রাবিতে চলছে চার দিনব্যাপী ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন Logo চীনা প্রকল্পে ডাকাতি, মোবাইল ফোনের সূত্রে গ্রেফতার পাঁচ  Logo কেরানীগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার Logo রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে ক্রুটি : বহু শিক্ষার্থীকে দেখানো হয়েছে ফেল

শীতে ফাটছে ঠোঁট, প্রতিকার কী?

শরীরের চামড়ার তুলনায় ঠোঁট বেশি ফাটে, কারণ এটি মূলত চামড়ার উপরিভাগের খুব পাতলা স্তর। তাই শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি হলে শরীর থেকে জলীয় অংশ কমে যায় এবং চামড়ার এই স্তরটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন ঠোঁট ফাটা, ঠোঁট থেকে রক্ত পড়া, ঠোঁটের পাশে ঘায়ের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এসব এড়াতে চাই বাড়তি যত্ন।

বিভিন্ন উপাদান ও এর ব্যবহারের উপায় বাতলে দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরিন মৌসুমী।১. ঠোঁটের মৃত কোষ তুলে কোমল ও গোলাপি আভা আনতে স্ক্রাব ব্যবহার করা জরুরি। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লিপ স্ক্রাব পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিজেও ঘরে বানিয়ে নিতে পারেন লিপ স্ক্রাব।

সে জন্য এক চামচ চিনির সঙ্গে এক চামচ অলিভ অয়েল আর কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মিশিয়ে সেই মিশ্রণ ৩-৪ মিনিট ঠোঁটে স্ক্রাব করে ধুয়ে ফেলুন। 

এ ছাড়া এক চামচ ভেজিটেবল গ্লিসারিনের সঙ্গে এক চা চামচ বেসন ভালোভাবে মিশিয়ে কয়েক ফোঁটা জোজোবা এসেনসিয়াল অয়েল মেশান। মিশ্রণটিতে কোনো পানি ব্যবহার করা যাবে না। এই মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটের কালচে পিগমেন্টেশন চলে যায় এবং ঠোঁটে গোলাপিভাব আসে।

২. আর্দ্রতা ও ময়েশ্চারাইজার বজায় রাখতে ঠোঁটে প্যাক ব্যবহার করা জরুরি। অনেকেরই ঠোঁটে কালো দাগ তো থাকে, সেই সঙ্গে ঠোঁটের দুই কোণে কালো দাগ বা কালচে ভাব দেখা যায়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। কাঁচা দুধের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে এই মিশ্রণ আলতো করে ঠোঁটে ঘষে নিন। শুকিয়ে এলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

সপ্তাহে অন্তত দু-এক দিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। 

রোজকার যত্নে

১. রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়মিত ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে হবে। ভালো হয় এর সঙ্গে বিটরুট ও গোলাপের মিশ্রণ যোগ করতে পারলে। প্রথমে একটি বিটরুটের রস নিয়ে তাতে ৬টি গোলাপ ফুলের পাপড়ি দিয়ে ভালো করে জ্বাল করে নিন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে ভ্যাসলিনের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই ভ্যাসলিনের মিশ্রণ ১২-১৫ দিন রেখে ব্যবহার করা যাবে। রোজকার ব্যবহারে ঠোঁট হবে নরম ও কোমল।

২. অনেকের ঠোঁটের দুই পাশে ঘা হয় বা ফেটে যায়। এ সমস্যাটি মূলত হয় ভিটামিন ‘বি১২’-এর অভাবে। চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে এই সমস্যার জন্য ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ভালো।

আজকাল বাজারে বা অনলাইনে অল্প সময় ঠোঁট গোলাপি করার নানা ক্রিম পাওয়া যায়। এতে সাময়িকভাবে ঠোঁট গোলাপি হলেও পরে ঠোঁটে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি ঠোঁটে কালচে দাগ হয়ে বসে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে এশিয়ানদের জন্য তৈরি লিপবাম ব্যবহার করা ভালো। এগুলো অনেক বেশি ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ। এতে ঠোঁটের চামড়া অতিরিক্ত পাতলা হওয়ার মতো সমস্যা হয় না। এ ছাড়া এসপিএফযুক্ত লিপবাম ঠোঁটকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতি থেকেও রক্ষা করে।

মানসম্পন্ন এবং ভালো কম্পানির লিপস্টিক, লিপবাম বা লিপলাইনার ব্যবহার করতে হবে। ঠোঁটের কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে এক চামচ গ্লিসারিনের সঙ্গে এক চামচ পানি মিশিয়ে মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগিয়ে ব্যবহার করলে ঠোঁটের ক্ষতি হবে না। বাইরে থেকে এসে অবশ্যই লিপস্টিক তুলে ফেলতে হবে।

জনপ্রিয়

কুবিতে প্রথম জাতীয় বিতর্ক উৎসবের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় সম্পন্ন

শীতে ফাটছে ঠোঁট, প্রতিকার কী?

প্রকাশিত ০৭:৪৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪
শরীরের চামড়ার তুলনায় ঠোঁট বেশি ফাটে, কারণ এটি মূলত চামড়ার উপরিভাগের খুব পাতলা স্তর। তাই শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি হলে শরীর থেকে জলীয় অংশ কমে যায় এবং চামড়ার এই স্তরটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন ঠোঁট ফাটা, ঠোঁট থেকে রক্ত পড়া, ঠোঁটের পাশে ঘায়ের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এসব এড়াতে চাই বাড়তি যত্ন।

বিভিন্ন উপাদান ও এর ব্যবহারের উপায় বাতলে দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরিন মৌসুমী।১. ঠোঁটের মৃত কোষ তুলে কোমল ও গোলাপি আভা আনতে স্ক্রাব ব্যবহার করা জরুরি। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লিপ স্ক্রাব পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিজেও ঘরে বানিয়ে নিতে পারেন লিপ স্ক্রাব।

সে জন্য এক চামচ চিনির সঙ্গে এক চামচ অলিভ অয়েল আর কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মিশিয়ে সেই মিশ্রণ ৩-৪ মিনিট ঠোঁটে স্ক্রাব করে ধুয়ে ফেলুন। 

এ ছাড়া এক চামচ ভেজিটেবল গ্লিসারিনের সঙ্গে এক চা চামচ বেসন ভালোভাবে মিশিয়ে কয়েক ফোঁটা জোজোবা এসেনসিয়াল অয়েল মেশান। মিশ্রণটিতে কোনো পানি ব্যবহার করা যাবে না। এই মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটের কালচে পিগমেন্টেশন চলে যায় এবং ঠোঁটে গোলাপিভাব আসে।

২. আর্দ্রতা ও ময়েশ্চারাইজার বজায় রাখতে ঠোঁটে প্যাক ব্যবহার করা জরুরি। অনেকেরই ঠোঁটে কালো দাগ তো থাকে, সেই সঙ্গে ঠোঁটের দুই কোণে কালো দাগ বা কালচে ভাব দেখা যায়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। কাঁচা দুধের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে এই মিশ্রণ আলতো করে ঠোঁটে ঘষে নিন। শুকিয়ে এলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

সপ্তাহে অন্তত দু-এক দিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। 

রোজকার যত্নে

১. রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়মিত ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে হবে। ভালো হয় এর সঙ্গে বিটরুট ও গোলাপের মিশ্রণ যোগ করতে পারলে। প্রথমে একটি বিটরুটের রস নিয়ে তাতে ৬টি গোলাপ ফুলের পাপড়ি দিয়ে ভালো করে জ্বাল করে নিন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে ভ্যাসলিনের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই ভ্যাসলিনের মিশ্রণ ১২-১৫ দিন রেখে ব্যবহার করা যাবে। রোজকার ব্যবহারে ঠোঁট হবে নরম ও কোমল।

২. অনেকের ঠোঁটের দুই পাশে ঘা হয় বা ফেটে যায়। এ সমস্যাটি মূলত হয় ভিটামিন ‘বি১২’-এর অভাবে। চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে এই সমস্যার জন্য ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ভালো।

আজকাল বাজারে বা অনলাইনে অল্প সময় ঠোঁট গোলাপি করার নানা ক্রিম পাওয়া যায়। এতে সাময়িকভাবে ঠোঁট গোলাপি হলেও পরে ঠোঁটে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি ঠোঁটে কালচে দাগ হয়ে বসে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে এশিয়ানদের জন্য তৈরি লিপবাম ব্যবহার করা ভালো। এগুলো অনেক বেশি ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ। এতে ঠোঁটের চামড়া অতিরিক্ত পাতলা হওয়ার মতো সমস্যা হয় না। এ ছাড়া এসপিএফযুক্ত লিপবাম ঠোঁটকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতি থেকেও রক্ষা করে।

মানসম্পন্ন এবং ভালো কম্পানির লিপস্টিক, লিপবাম বা লিপলাইনার ব্যবহার করতে হবে। ঠোঁটের কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে এক চামচ গ্লিসারিনের সঙ্গে এক চামচ পানি মিশিয়ে মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগিয়ে ব্যবহার করলে ঠোঁটের ক্ষতি হবে না। বাইরে থেকে এসে অবশ্যই লিপস্টিক তুলে ফেলতে হবে।