ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo অনলাইনে ক্লাস নেওয়া ‘বাস্তবতা জ্ঞানহীন ফালতু সিদ্ধান্ত’: রাবির সাবেক উপাচার্য Logo ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবা নারীকে ধর্ষণ, আটক এক Logo কুবিতে প্রথম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাকৃবিতে প্রথম বারের মতো ‘ক্যাট শো’ অনুষ্ঠিত Logo জাবিতে মোবাইল ফটোগ্রাফি কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo ববিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের নতুন নেতৃত্বে সাইদুর রহমান ও ইমাম হোসেন Logo বাকৃবি শিক্ষার্থীদের খাবারের মান বৃদ্ধি, রেলস্টেশন চালু ও নানা উন্নয়ন ইস্যুতে সরব ছাত্রদল নেতা Logo বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি তানভীর, সম্পাদক ইসরাত Logo গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছুদের সহায়তায় নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের নানাবিধ উদ্যোগ Logo সিনিয়র জুনিয়র কথা কাটাকাটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষ; আহত ১০-১৫ জন

পৌষ সংক্রান্তি: বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য

বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি। বাংলা পৌষ মাসের শেষ দিন এই উৎসব পালন করা হয়। বাংলার প্রাচীন উৎসবগুলোর মধ্যে পৌষ সংক্রান্তি একটি। একে পৌষ পার্বণ বা মকর সংক্রান্তিও বলা হয়।

এক সময় বেশ আয়োজন করে পৌষ সংক্রান্তি উদযাপন করা হতো। বিশেষ করে গ্রাম বাংলায় এ উপলক্ষে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালনের রীতি প্রচলিত ছিল। কালের বিবর্তনে এখন এই উৎসব অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে। তবুও ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষরা এখনও ঘটা করে উদযাপন করতে পৌষ সংক্রান্তি।

 

poush-shangkranti

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে বাড়িতে বাড়িতে পিঠা-পুলির আয়োজন করা হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত পিঠা উৎসবের মধ্যে পৌষ সংক্রান্তি বিশেষ স্থান অধিকার করে নিয়েছে।

মকর সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণ সংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পিতৃপুরুষ ও বাস্তুদেবতার জন্য তিল কিংবা খেজুর গুড় দিয়ে তিলুয়া তৈরি করে। নতুন চালে তৈরি করা পিঠার অর্ঘ্য দান করে। এ কারণে পৌষ সংক্রান্তির আরেক নাম তিলুয়া সংক্রান্তি বা পিঠা সংক্রান্তি।

poush

তবে পৌষ সংক্রান্তিকে পুরোপুরি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বিশেষ সুযোগ নেই। এসময় গ্রামের ঘরে ঘরে তৈরি হয় ভাপা, পাটিসাপটা, দুধ চিতই, মুগ পুলি, ছিট পিঠা ইত্যাদি। মায়েরা-মেয়েরা রাত জেগে পিঠার গায়ে অলঙ্করণ করেন- ফুল, লতাপাতা, পাখি, মাছের চোখ। সারারাত ধরে চলে এ আয়োজন। একদিকে চুলা থেকে পিঠা ওঠে। অন্য দিকে চলে গরম গরম খাওয়া। এসব পিঠার স্বাদ অতুলনীয়।

পৌষ সংক্রান্তিতে আত্মীয়-স্বজনদেরও নিমন্ত্রণ করে পিঠা খাওয়ানো হয়। বাংলা এই মাসের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন হলো পৌষমেলা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তি নিকেতনে পৌষমেলার আয়োজন করতেন। এখনও পৌষমেলায় লোকজ সংস্কৃতির নানা পণ্য দিয়ে স্টল সাজান দোকানিরা। রাখা হয় পিঠা-পায়েস, খেজুরের রস।

ghuri

পুরান ঢাকার পাড়া-মহল্লায় এইদিনে ঘুড়ি উৎসব বেশ প্রসিদ্ধ। বাড়ির ছাদে, মাঠে সকাল থেকে দিনজুড়ে চলে ঘুড়ি উড়ানো, গান-বাজনা আর খাওয়া-দাওয়া। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় আতশবাজি, ফানুস উড়ানো এবং বাজি-পটকা ফোটানো।

এদিন রাজধানীর সংস্কৃতিকর্মীরা আয়োজন করে বাংলার শাশ্বত পৌষমেলার। মেলায় পিঠা-পুলির স্টল বসে। চোখের সামনেই চলে পিঠা তৈরি ও বিক্রি। একই সময় লোক আয়োজন থাকে অনুষ্ঠান মঞ্চে। মঞ্চ থেকে জারি, সারি, ভাটিয়ালী গানে তুলে ধরা লোকায়ত সংস্কৃতি। পুঁথি পাঠ, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে প্রজন্মকে আহ্বান জানানো হয় মাটির কাছাকাছি আসার।

জনপ্রিয়

অনলাইনে ক্লাস নেওয়া ‘বাস্তবতা জ্ঞানহীন ফালতু সিদ্ধান্ত’: রাবির সাবেক উপাচার্য

পৌষ সংক্রান্তি: বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য

প্রকাশিত ১১:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫

বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি। বাংলা পৌষ মাসের শেষ দিন এই উৎসব পালন করা হয়। বাংলার প্রাচীন উৎসবগুলোর মধ্যে পৌষ সংক্রান্তি একটি। একে পৌষ পার্বণ বা মকর সংক্রান্তিও বলা হয়।

এক সময় বেশ আয়োজন করে পৌষ সংক্রান্তি উদযাপন করা হতো। বিশেষ করে গ্রাম বাংলায় এ উপলক্ষে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালনের রীতি প্রচলিত ছিল। কালের বিবর্তনে এখন এই উৎসব অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে। তবুও ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষরা এখনও ঘটা করে উদযাপন করতে পৌষ সংক্রান্তি।

 

poush-shangkranti

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে বাড়িতে বাড়িতে পিঠা-পুলির আয়োজন করা হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত পিঠা উৎসবের মধ্যে পৌষ সংক্রান্তি বিশেষ স্থান অধিকার করে নিয়েছে।

মকর সংক্রান্তি বা উত্তরায়ণ সংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পিতৃপুরুষ ও বাস্তুদেবতার জন্য তিল কিংবা খেজুর গুড় দিয়ে তিলুয়া তৈরি করে। নতুন চালে তৈরি করা পিঠার অর্ঘ্য দান করে। এ কারণে পৌষ সংক্রান্তির আরেক নাম তিলুয়া সংক্রান্তি বা পিঠা সংক্রান্তি।

poush

তবে পৌষ সংক্রান্তিকে পুরোপুরি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বিশেষ সুযোগ নেই। এসময় গ্রামের ঘরে ঘরে তৈরি হয় ভাপা, পাটিসাপটা, দুধ চিতই, মুগ পুলি, ছিট পিঠা ইত্যাদি। মায়েরা-মেয়েরা রাত জেগে পিঠার গায়ে অলঙ্করণ করেন- ফুল, লতাপাতা, পাখি, মাছের চোখ। সারারাত ধরে চলে এ আয়োজন। একদিকে চুলা থেকে পিঠা ওঠে। অন্য দিকে চলে গরম গরম খাওয়া। এসব পিঠার স্বাদ অতুলনীয়।

পৌষ সংক্রান্তিতে আত্মীয়-স্বজনদেরও নিমন্ত্রণ করে পিঠা খাওয়ানো হয়। বাংলা এই মাসের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন হলো পৌষমেলা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তি নিকেতনে পৌষমেলার আয়োজন করতেন। এখনও পৌষমেলায় লোকজ সংস্কৃতির নানা পণ্য দিয়ে স্টল সাজান দোকানিরা। রাখা হয় পিঠা-পায়েস, খেজুরের রস।

ghuri

পুরান ঢাকার পাড়া-মহল্লায় এইদিনে ঘুড়ি উৎসব বেশ প্রসিদ্ধ। বাড়ির ছাদে, মাঠে সকাল থেকে দিনজুড়ে চলে ঘুড়ি উড়ানো, গান-বাজনা আর খাওয়া-দাওয়া। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় আতশবাজি, ফানুস উড়ানো এবং বাজি-পটকা ফোটানো।

এদিন রাজধানীর সংস্কৃতিকর্মীরা আয়োজন করে বাংলার শাশ্বত পৌষমেলার। মেলায় পিঠা-পুলির স্টল বসে। চোখের সামনেই চলে পিঠা তৈরি ও বিক্রি। একই সময় লোক আয়োজন থাকে অনুষ্ঠান মঞ্চে। মঞ্চ থেকে জারি, সারি, ভাটিয়ালী গানে তুলে ধরা লোকায়ত সংস্কৃতি। পুঁথি পাঠ, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে প্রজন্মকে আহ্বান জানানো হয় মাটির কাছাকাছি আসার।