আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নারী হওয়ার কারণে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করার বিষয়ে মুখ খুলেছেন। সম্প্রতি পার্লামেন্ট সেশনের বক্তব্যে তিনি জানান যে সকালের নাশতা বানানো, থালাবাসন ধোওয়া এবং মেকআপ নেওয়ার মতো ঘরের কাজের জন্য তার প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হয়। এই মন্তব্য জাপানে লিঙ্গভেদে ভূমিকা এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নিজেকে কাজের নেশায় আসক্ত বলে বর্ণনা করা তাকাইচি এর আগে জানিয়েছিলেন যে তিনি রাতে মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান।
জাপানের সমাজে নারী ও পুরুষদের কাজ বা দায়িত্ব খুব কড়াভাবে ভাগ করা রয়েছে এবং রাজনীতিতে নারীদের সুযোগ বা অংশগ্রহণ খুবই কম। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিম্নকক্ষ নির্বাচনে মোট চারশত পয়ষট্টিটি আসনের মধ্যে মাত্র আটষট্টি জন নারী নির্বাচিত হতে পেরেছেন। পার্লামেন্ট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকার প্রথাগত নিয়ম নিয়ে ক্ষমতাসীন কোয়ালিশনের এক সদস্য প্রশ্ন তুললে তাকাইচির সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। জাপানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিদিন প্রায় পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পার্লামেন্টে উপস্থিত থাকতে হয়।
সংসদের এই সময়ে নেতারা হয় বিরোধী দলের সদস্যদের কঠিন প্রশ্নের উত্তর দেন অথবা সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বসে থাকেন যা জাপানের রাজনীতিতে একটি স্বাভাবিক প্রথা। একটি গবেষণার বরাত দিয়ে জাপান ইনোভেশন পার্টির আইনপ্রণেতা ফুমিতাকে ফুজিৎসা জানিয়েছেন যে দুই হাজার বাইশ সালে অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী অনেক বেশি দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাহাত্তর দিন উপস্থিত ছিলেন, যেখানে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পঞ্চাশ দিন এবং জার্মানির চ্যান্সেলর মাত্র তেরো দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন। আইনপ্রণেতা ফুমিতাকে ফুজিৎসা উল্লেখ করেন যে পার্লামেন্টে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নেতারালকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংসদে আটকে রাখা বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে মেলে না।
তাকাইচি এর আগে গত জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছিলেন যে তিনি কাজ থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা নথিপত্র এবং সংসদীয় প্রশ্নোত্তর সম্পর্কিত কাগজপত্রের পেছনে ভোর পর্যন্ত ডুবে থাকেন। সম্প্রতি তিনি বলেন যে তিনি মাঝরাতে স্তূপাকার এসব নথিপত্র পড়তে পছন্দ করলেও শান্ত মাথায় দেশের ভবিষ্যৎ বা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে ভাবার মতো সময় বের করা তার জন্য কঠিন। তাকাইচির এই বক্তব্য জাপানি রাজনীতিতে নারী নেত্রীদের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ এবং কাজের চাপের বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।




































