আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের মুখে ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেও চলমান সংঘাত থেকে নানাভাবে লাভবান হচ্ছে মস্কো। তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে সমৃদ্ধ করছে। সম্প্রতি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তেহরান সফর করে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুসংহত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ বিশেষজ্ঞরা ধীরে ধীরে ফিরে যাচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদী এই কৌশলগত সম্পর্কের মাধ্যমে মস্কো মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চাইছে।
ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিকল্প উৎস হিসেবে রুশ জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রও রুশ তেলের ওপর আরোপিত বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সমুদ্রপথে রুশ তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি ডিজেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদও বৃদ্ধি করেছে। এসব অর্থনৈতিক সুবিধা ছাড়াও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর-কষাকষির দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে ক্রেমলিনের জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যকার এই দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা এবং ওয়াশিংটনের নীতিগত দুর্বলতা রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছে। মার্কিন নীতির কারণে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যা ইউক্রেন ইস্যুতে মস্কোর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। তবে রাশিয়ার নীতিনির্ধারকরা এই সংঘাতের মাত্রাতিরিক্ত বিস্তার বা অনিশ্চিত পরিণতি এড়াতেও সতর্ক রয়েছে। কারণ সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাময়িক এই সুবিধাগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসংশ্লিষ্ট প্রায় সব পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ থাকায় মস্কো একটি কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের ফলে অর্থনৈতিক লাভ ও কূটনৈতিক দর-কষাকষির সুযোগ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে রাশিয়া। মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ না থাকায় ইরান সংকট নিরসনে পুতিনের মধ্যস্থতা বা বার্তার আদান-প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কোর এই মধ্যস্থতার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই সমীকরণে তেহরান ও মস্কোর পারস্পরিক সহযোগিতা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




































