আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে সে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে হুতি বিদ্রোহীদের দফায় দফায় হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর উদ্বেগের জেরে এই পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে হুতিরা নিয়মিতভাবে সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে। এসব হামলার কারণে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হুতিদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হলে সৌদি কর্তৃপক্ষ তা প্রতিহত করে এবং ওই ঘটনায় দুজন নিহত হন। অন্যদিকে, ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতিদের হামলায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পাদিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় দেশটিতে সেনা পাঠানোর অনুমোদন নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি বলে সরকারি দলের সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও সৌদি আরবের ভূখণ্ড রক্ষায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সৌদি আরব ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তারা গভীরভাবে সতর্ক রয়েছে। ক্রমবর্ধমান এসব উত্তেজনার ফলে ইয়েমেন ও সৌদি সংঘাতের গণ্ডি পেরিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যপথের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইরানে সম্ভাব্য নতুন কোনো হামলার সঙ্গে এই নির্দেশের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নিশ্চিত করা হয়নি। আগামী তিন নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে ভালো ফলাফল করলে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।




































