ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‘নালার সংস্কারকাজ করিয়ে ২০-৫০ হাজার টাকা নেন নয়নের অনুসারীরা’ Logo নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিরাপত্তা কঠোর করছে ফ্রান্স Logo সাইবার হামলায় অচল ছিল উত্তর কোরিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট Logo পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে প্রথম জয়ের গল্প লিখল ফর্টিস এফসি Logo ‘ব্যক্তি স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না’ Logo প্রয়োজন কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং বিকল্প শ্রমবাজার Logo তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি Logo চট্টগ্রামে কবীর-লালন ভাবসংগীতের মূর্ছনা Logo ‘রুমিন ফারহানা আপারা মৌসুমি রাজনীতি করেন’ Logo কক্সবাজারের হোটেলে আবারও আগুন, রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক

তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

খেলা ডেস্ক: দেশের তরুণ সমাজকে মাদক, হতাশা এবং মোবাইল আসক্তির করাল গ্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ব্যাপক প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন। বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার সূচনা করার পর তিনি বলেন যে খেলাধুলা যুবসমাজকে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসী হতে শেখায়। অ্যাথলেটিকসকে ক্রীড়ার জননী আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে এর মজবুত ভিত্তি থাকলে অন্য সব খেলায়ও দেশের প্রতিযোগীরা ভালো করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৫৭টি অংশগ্রহণকারী দলের মার্চ পাস্ট ও থিম সং পরিবেশন করা হয় এবং সাবেক অ্যাথলেটরা গেমসের মশাল প্রজ্বলন করেন। রাষ্ট্রপতি পরে পুরুষ ও নারী বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন এবং সফল অ্যাথলেটদের গলায় পদক পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি জানান যে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে এবং সুস্থ জাতি গঠনে বর্তমান সরকার নানা কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। সরকারের এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে স্পোর্টস কার্ড প্রদান, স্পোর্টস অ্যালাউন্স চালু করা, প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলা। এছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন এবং মাঠগুলো দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা ওড়ানোর গর্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন যে বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজার সময় জাতি হিসেবে আমাদের একটাই পরিচয় থাকে। নারী অ্যাথলেটদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো উদীয়মান প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকার তাগিদ দেওয়া হয়। বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করার এই প্রক্রিয়ায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গকৃত এই প্রতিযোগিতায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন। বিকেলের দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন। এই মেগা আসর থেকে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার মতো অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। খেলাধুলার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে এমন বড় আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জনপ্রিয়

‘নালার সংস্কারকাজ করিয়ে ২০-৫০ হাজার টাকা নেন নয়নের অনুসারীরা’

তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত ১০:২২:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

খেলা ডেস্ক: দেশের তরুণ সমাজকে মাদক, হতাশা এবং মোবাইল আসক্তির করাল গ্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ব্যাপক প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন। বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার সূচনা করার পর তিনি বলেন যে খেলাধুলা যুবসমাজকে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসী হতে শেখায়। অ্যাথলেটিকসকে ক্রীড়ার জননী আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে এর মজবুত ভিত্তি থাকলে অন্য সব খেলায়ও দেশের প্রতিযোগীরা ভালো করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৫৭টি অংশগ্রহণকারী দলের মার্চ পাস্ট ও থিম সং পরিবেশন করা হয় এবং সাবেক অ্যাথলেটরা গেমসের মশাল প্রজ্বলন করেন। রাষ্ট্রপতি পরে পুরুষ ও নারী বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন এবং সফল অ্যাথলেটদের গলায় পদক পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি জানান যে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে এবং সুস্থ জাতি গঠনে বর্তমান সরকার নানা কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। সরকারের এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে স্পোর্টস কার্ড প্রদান, স্পোর্টস অ্যালাউন্স চালু করা, প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলা। এছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন এবং মাঠগুলো দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা ওড়ানোর গর্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন যে বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজার সময় জাতি হিসেবে আমাদের একটাই পরিচয় থাকে। নারী অ্যাথলেটদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো উদীয়মান প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকার তাগিদ দেওয়া হয়। বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করার এই প্রক্রিয়ায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গকৃত এই প্রতিযোগিতায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন। বিকেলের দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন। এই মেগা আসর থেকে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার মতো অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। খেলাধুলার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে এমন বড় আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।