ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের ২০ বছর: উদযাপন রূপ নিল শোকসভায়

গণমাধ্যম ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারনেট সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২০ বছর পূর্তির মাইলফলক উদযাপন একান্তে ঘরোয়া আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে। অতীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব আয়োজন যার চারপাশে ঘুরত, সেই প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী সম্প্রতি মারা যাওয়ায় এবারের উৎসব রূপ নেয় স্মরণসভায়। তার ২১ দিন আগে প্রয়াণের কারণে পাঁচ তারকা হোটেলের বড় আয়োজন এবং বিশেষ প্রকাশনা স্থগিত করা হয়েছে। বার্তা কক্ষের এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সংবাদমাধ্যমটির পুরোনো ও বর্তমান কর্মীরা। ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের ২০ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে তার দেওয়া ‘অগ্রণী, স্বাধীন, নির্ভীক— ২০ বছর পেরিয়ে…’ স্লোগানে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সহকর্মীরা তৌফিক ইমরোজ খালিদীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রয়াত প্রধান সম্পাদকের উত্তরসূরি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক বিশ্বদীপ দাশ জানান, তৌফিক ভাইয়ের সততা ও সাহসের শিক্ষা তাদের পথ দেখাবে। শোকের কারণে কাজ থামিয়ে দেওয়া হলে তিনি খুশি হতেন না উল্লেখ করে তার আদর্শ ধারণ করে সংবাদমাধ্যমটিকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রাদ শারার খালিদী এবং সাবেক কর্মী অরুণ দেবনাথসহ অনেকে। তারা ডিজিটাল সাংবাদিকতায় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর হাত ধরেই দুই দশক আগে বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদ যুগের সূচনা হয়েছিল বলে অনুষ্ঠানে আলোচিত হয়। ২০০৬ সালে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর ইন্টারনেটভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমকে দেশের প্রথম ডটকম কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বেই মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট, মোবাইল ফোনে সংবাদসেবা এবং ব্রেকিং নিউজ অ্যালার্ট চালুর ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান। সবার আগে নির্ভুল খবর প্রকাশের মন্ত্রে বিশ্বাসী থেকে তিনি এই সংবাদমাধ্যমকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পরিচালনা করেছেন। তাঁর এই অবদান দেশের সাংবাদিকতা জগতে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সাবেক কর্মী অরুণ দেবনাথ তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করেন যে, দুই দশক আগে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সফলতা নিয়ে সংশয় থাকলেও তৌফিক খালিদী প্রযুক্তির চাহিদা বুঝেছিলেন। তিনি কেবল নির্দেশদাতা ছিলেন না, বরং নিজেই নিউজ ডেস্কে বসে সংবাদ সম্পাদনা ও প্রকাশ করতেন। চরম আর্থিক সংকট ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কর্মীদের সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছেন এবং নতুন যুগের সংবাদমাধ্যম গড়ে তুলেছেন। তার দেখানো আদর্শ ও সাংবাদিকতার মানদণ্ড বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তাকে স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ উপায় বলে সহকর্মীরা মত প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয়

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের ২০ বছর: উদযাপন রূপ নিল শোকসভায়

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের ২০ বছর: উদযাপন রূপ নিল শোকসভায়

প্রকাশিত ০২:৩৭:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

গণমাধ্যম ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারনেট সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২০ বছর পূর্তির মাইলফলক উদযাপন একান্তে ঘরোয়া আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে। অতীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব আয়োজন যার চারপাশে ঘুরত, সেই প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী সম্প্রতি মারা যাওয়ায় এবারের উৎসব রূপ নেয় স্মরণসভায়। তার ২১ দিন আগে প্রয়াণের কারণে পাঁচ তারকা হোটেলের বড় আয়োজন এবং বিশেষ প্রকাশনা স্থগিত করা হয়েছে। বার্তা কক্ষের এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সংবাদমাধ্যমটির পুরোনো ও বর্তমান কর্মীরা। ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের ২০ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে তার দেওয়া ‘অগ্রণী, স্বাধীন, নির্ভীক— ২০ বছর পেরিয়ে…’ স্লোগানে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সহকর্মীরা তৌফিক ইমরোজ খালিদীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রয়াত প্রধান সম্পাদকের উত্তরসূরি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক বিশ্বদীপ দাশ জানান, তৌফিক ভাইয়ের সততা ও সাহসের শিক্ষা তাদের পথ দেখাবে। শোকের কারণে কাজ থামিয়ে দেওয়া হলে তিনি খুশি হতেন না উল্লেখ করে তার আদর্শ ধারণ করে সংবাদমাধ্যমটিকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রাদ শারার খালিদী এবং সাবেক কর্মী অরুণ দেবনাথসহ অনেকে। তারা ডিজিটাল সাংবাদিকতায় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর হাত ধরেই দুই দশক আগে বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদ যুগের সূচনা হয়েছিল বলে অনুষ্ঠানে আলোচিত হয়। ২০০৬ সালে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর ইন্টারনেটভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমকে দেশের প্রথম ডটকম কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বেই মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট, মোবাইল ফোনে সংবাদসেবা এবং ব্রেকিং নিউজ অ্যালার্ট চালুর ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান। সবার আগে নির্ভুল খবর প্রকাশের মন্ত্রে বিশ্বাসী থেকে তিনি এই সংবাদমাধ্যমকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পরিচালনা করেছেন। তাঁর এই অবদান দেশের সাংবাদিকতা জগতে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সাবেক কর্মী অরুণ দেবনাথ তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করেন যে, দুই দশক আগে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সফলতা নিয়ে সংশয় থাকলেও তৌফিক খালিদী প্রযুক্তির চাহিদা বুঝেছিলেন। তিনি কেবল নির্দেশদাতা ছিলেন না, বরং নিজেই নিউজ ডেস্কে বসে সংবাদ সম্পাদনা ও প্রকাশ করতেন। চরম আর্থিক সংকট ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কর্মীদের সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছেন এবং নতুন যুগের সংবাদমাধ্যম গড়ে তুলেছেন। তার দেখানো আদর্শ ও সাংবাদিকতার মানদণ্ড বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তাকে স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ উপায় বলে সহকর্মীরা মত প্রকাশ করেন।