ক্যাম্পাস ডেস্ক: উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রায় ত্রিশ কোটি টাকা মূল্যের ছাব্বিশটি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ষোলো বছর পরও এটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জনবল ও তহবিলের অভাবে এই গবেষণা অবকাঠামোর সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ হলো, এত বড় স্থাপনা থাকলেও সেখানে সরাসরি হাতে-কলমে যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।
এই গবেষণাগারে সিঙ্গেল ক্রিস্টাল ও পাউডার এক্সআরডি, এনএমআর, এইচপিএলসি, জিসি, আরটি-পিসিআর এবং মাইক্রোস্কোপের মতো বহুমুখী আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব সরঞ্জামের মাধ্যমে রাসায়নিক ও জীববৈজ্ঞানিক নমুনা বিশ্লেষণ, স্ফটিকের গঠন নির্ণয় এবং ওষুধ পরীক্ষাসহ নানা ধরনের গবেষণা করা সম্ভব। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখান থেকে নিয়মিত সেবা নিলেও অভ্যন্তরীণ সংকট কাটছে না। কারিগরি জনবলের সংকটের পাশাপাশি তীব্র অর্থসংকট কেন্দ্রটির কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯টি কারিগরি পদের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন আছে মাত্র চারটির এবং বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন তিনজন। ল্যাব পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও রাসায়নিক কেনার জন্য বার্ষিক আড়াই কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ মেলে মাত্র ৩০ লাখ টাকা। বাজেট সংকটের কারণে ইতিমধ্যেই প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অর্থ ও উপকরণের অভাবে গবেষণার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা সক্ষমতা বাড়াতে ইউজিসির কাছে আবেদন করেছেন।
পরিস্থিতি উন্নয়নে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ও জিসি-এমএস সংযোজনের উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি প্রশিক্ষণ মডিউল প্রস্তুত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে গবেষণায় আরও বেশি যুক্ত হতে পারে এবং গবেষণাগার তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকে, সে বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এই গবেষণা কেন্দ্রটির পূর্ণ সচলতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।





































