ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

স্মার্টওয়াচের বিভিন্ন রিডিংয়ে কতটা ভরসা রাখবেন বা রাখবেন না

প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমানে স্মার্টওয়াচ এবং পরা যায় এমন বিভিন্ন গ্যাজেট শুধু হাঁটার পদক্ষেপ বা হৃদকম্পন মাপার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক এই ডিভাইসগুলো মানুষের ঘুম, ত্বকের তাপমাত্রা, শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রার মতো নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহারকারীকে আগেভাগে সতর্ক করে দিতে সক্ষম। বিজ্ঞাপনের চটকদার প্রচারণায় এগুলোকে জাদুকরী চিকিৎসাযন্ত্র মনে হলেও, এর কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এফডিএ-এর অনুমোদন পাওয়া যেকোনো স্বাস্থ্য-ফিচার নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে থাকে। অ্যাপলের বিভিন্ন আয়োজনে জীবন বাঁচানোর এমন অনেক গল্প শোনানো হয় যা মানুষের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করে। স্বাস্থ্যসচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এই পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এর পুরোটাই অতিরঞ্জিত প্রচারণা নয়, আবার নিখুঁত রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও ডিভাইসগুলো পুরোপুরি পারদর্শী নয়।

বিভিন্ন গ্যাজেট শরীরের স্বাভাবিক নিয়মের বাইরের কোনো পরিবর্তন বা ব্যতিক্রম দ্রুত ধরে ফেলতে পারে। যেমন, হৃৎপিণ্ডের অনিয়মিত গতি বা অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অ্যাপল ওয়াচ বেশ কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। অ্যাপল ওয়াচের সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের পরীক্ষায় বড় একটি অংশেই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। চিকিৎসকেরা মনে করেন, হাঁটার কদম বা ঘুমের সাধারণ ধরনের মতো নির্দিষ্ট কিছু ডেটা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও বেশ নির্ভরযোগ্য।

তবে স্মার্টওয়াচের অন্যান্য পরিমাপ চিকিৎসা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট নির্ভুল নয়। রক্তচাপের সতর্কবার্তা, ক্যালরি খরচের হিসাব কিংবা ঘুমের বিভিন্ন স্তরের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণকে চিকিৎসকেরা পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য মনে করেন না। এছাড়া ওয়েলনেস স্কোরগুলো নিজস্ব অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় চিকিৎসকদের কাছে এগুলো খুব বেশি অকাট্য তথ্য দেয় না। হৃদকম্পন বেড়ে যাওয়ার মতো সংকেত কোনো সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, আবার এর পেছনে অতিরিক্ত খাওয়া বা ঘুমের অভাবের মতো সাধারণ কারণও থাকতে পারে।

শরীরের সমস্যা আঁচ করতে পটু হলেও সমস্যাটি ঠিক কী কারণে হচ্ছে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে ডিভাইসগুলো এখনো দুর্বল। ঠিক এই কারণেই চিকিৎসকেরা যেকোনো একটি নির্দিষ্ট রিডিংয়ের ওপর ভরসা না করে দীর্ঘদিনের সার্বিক পরিবর্তনের ধারার ওপর বেশি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।

জনপ্রিয়

সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেই হেনরি ও ফার্গুসন

স্মার্টওয়াচের বিভিন্ন রিডিংয়ে কতটা ভরসা রাখবেন বা রাখবেন না

প্রকাশিত ১২:২২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমানে স্মার্টওয়াচ এবং পরা যায় এমন বিভিন্ন গ্যাজেট শুধু হাঁটার পদক্ষেপ বা হৃদকম্পন মাপার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক এই ডিভাইসগুলো মানুষের ঘুম, ত্বকের তাপমাত্রা, শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রার মতো নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহারকারীকে আগেভাগে সতর্ক করে দিতে সক্ষম। বিজ্ঞাপনের চটকদার প্রচারণায় এগুলোকে জাদুকরী চিকিৎসাযন্ত্র মনে হলেও, এর কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এফডিএ-এর অনুমোদন পাওয়া যেকোনো স্বাস্থ্য-ফিচার নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে থাকে। অ্যাপলের বিভিন্ন আয়োজনে জীবন বাঁচানোর এমন অনেক গল্প শোনানো হয় যা মানুষের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করে। স্বাস্থ্যসচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এই পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এর পুরোটাই অতিরঞ্জিত প্রচারণা নয়, আবার নিখুঁত রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও ডিভাইসগুলো পুরোপুরি পারদর্শী নয়।

বিভিন্ন গ্যাজেট শরীরের স্বাভাবিক নিয়মের বাইরের কোনো পরিবর্তন বা ব্যতিক্রম দ্রুত ধরে ফেলতে পারে। যেমন, হৃৎপিণ্ডের অনিয়মিত গতি বা অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অ্যাপল ওয়াচ বেশ কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। অ্যাপল ওয়াচের সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের পরীক্ষায় বড় একটি অংশেই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। চিকিৎসকেরা মনে করেন, হাঁটার কদম বা ঘুমের সাধারণ ধরনের মতো নির্দিষ্ট কিছু ডেটা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও বেশ নির্ভরযোগ্য।

তবে স্মার্টওয়াচের অন্যান্য পরিমাপ চিকিৎসা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট নির্ভুল নয়। রক্তচাপের সতর্কবার্তা, ক্যালরি খরচের হিসাব কিংবা ঘুমের বিভিন্ন স্তরের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণকে চিকিৎসকেরা পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য মনে করেন না। এছাড়া ওয়েলনেস স্কোরগুলো নিজস্ব অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় চিকিৎসকদের কাছে এগুলো খুব বেশি অকাট্য তথ্য দেয় না। হৃদকম্পন বেড়ে যাওয়ার মতো সংকেত কোনো সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, আবার এর পেছনে অতিরিক্ত খাওয়া বা ঘুমের অভাবের মতো সাধারণ কারণও থাকতে পারে।

শরীরের সমস্যা আঁচ করতে পটু হলেও সমস্যাটি ঠিক কী কারণে হচ্ছে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে ডিভাইসগুলো এখনো দুর্বল। ঠিক এই কারণেই চিকিৎসকেরা যেকোনো একটি নির্দিষ্ট রিডিংয়ের ওপর ভরসা না করে দীর্ঘদিনের সার্বিক পরিবর্তনের ধারার ওপর বেশি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।