রাজধানী ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে মোট বিশটি পরিবীক্ষণ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এই নতুন কমিটিগুলো গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় এসব টিম তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। সরকারি কোয়ার্টার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়ার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা এসেছে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ভিত্তিক এই ২০টি জোনাল কমিটি কাজ করবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির এলাকায় দশটি এবং দক্ষিণ সিটি সিটির এলাকায় দশটি টিম মাঠে থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এসব পরিবীক্ষণ কমিটির প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। সরকারি বাসভবন বা হাসপাতাল চত্বরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কিংবা মশার লার্ভা পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বড় অংকের জরিমানা এবং সরকারি ফ্ল্যাটের বরাদ্দ সরাসরি বাতিল করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই ঢাকাকে বাসযোগ্য করার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। কিন্তু বড় বড় সরকারি কোয়ার্টার, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও হাসপাতালে চালানো অভিযানে চরম অবহেলা এবং মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে কাজ করেন এবং অনিয়ম দেখলেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেন। নিজেদের কোয়ার্টার পরিষ্কার রাখতে ব্যর্থ হলে সরকারি বাসায় বসবাসের যোগ্যতা থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান লেকের পুরোনো সৌন্দর্য ফেরাতে রাজউক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটির ঊনত্রিশটি এবং দক্ষিণ সিটির ছাব্বিশটি খাল পুনঃখনন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ও নেটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। প্লাস্টিক বা লোহার ডাস্টবিন চুরির সমস্যা এড়াতে ফাইবার বোর্ডের তৈরি নতুন ডাস্টবিন পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হবে।
এই বিশেষ টিমগুলোর সমন্বিত এবং কঠোর ভূমিকার ফলে খুব শীঘ্রই ইতিবাচক ফলাফল আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই রাজধানীর পরিবেশ ও দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ বিশটি পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।





































