ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ছাত্রদের যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠা ৫১% মাদ্রাসা শিক্ষক: জেএমবিএফ

অপরাধ ডেস্ক: ফ্রান্সভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্সের পরিসংখ্যানে দেশের ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশে ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ১৭২টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২৩৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি, যার মধ্যে ১৫৩ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটি তাদের হালনাগাদ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২০১ জনের মধ্যে ১০৩ জন বা ৫১ শতাংশই মাদ্রাসার শিক্ষক। এ ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ইমাম ও মুয়াজ্জিনরাও এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১২৫ জনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে। বেশিরভাগ অপরাধের ঘটনা ঘটেছে মাদ্রাসার ভেতরে, যেখানে ৯১টি ঘটনায় ১৩৭ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পাড়া-মহল্লায় ২৯টি এবং স্কুলে ছয়টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৭২টি ঘটনার মধ্যে ১৪৮টিতে মামলা বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং ১৩৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নথিবদ্ধ এসব ঘটনায় কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন, অভিযোগপত্র বা সাজা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। জেএমবিএফের সভাপতি শাহানুর ইসলাম মনে করেন, সংবাদমাধ্যমে সব ঘটনা প্রকাশিত না হওয়ায় প্রকৃত চিত্র নথিভুক্ত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তিনি মাদ্রাসাসহ সব আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. সামিনা লুৎফা নিত্রা এই ধরনের ঘটনাকে আদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা এবং কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দেন। শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অনানুষ্ঠানিক সালিশ বা অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার পথ বন্ধ করে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুদের পরিচয় গোপন রেখে তাদের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

পুঁজিবাজারে আসতে চায় অ্যানথ্রপিক

ছাত্রদের যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠা ৫১% মাদ্রাসা শিক্ষক: জেএমবিএফ

প্রকাশিত ০১:২২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: ফ্রান্সভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্সের পরিসংখ্যানে দেশের ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশে ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ১৭২টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২৩৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি, যার মধ্যে ১৫৩ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটি তাদের হালনাগাদ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২০১ জনের মধ্যে ১০৩ জন বা ৫১ শতাংশই মাদ্রাসার শিক্ষক। এ ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ইমাম ও মুয়াজ্জিনরাও এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১২৫ জনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে। বেশিরভাগ অপরাধের ঘটনা ঘটেছে মাদ্রাসার ভেতরে, যেখানে ৯১টি ঘটনায় ১৩৭ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পাড়া-মহল্লায় ২৯টি এবং স্কুলে ছয়টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৭২টি ঘটনার মধ্যে ১৪৮টিতে মামলা বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং ১৩৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নথিবদ্ধ এসব ঘটনায় কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন, অভিযোগপত্র বা সাজা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। জেএমবিএফের সভাপতি শাহানুর ইসলাম মনে করেন, সংবাদমাধ্যমে সব ঘটনা প্রকাশিত না হওয়ায় প্রকৃত চিত্র নথিভুক্ত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তিনি মাদ্রাসাসহ সব আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. সামিনা লুৎফা নিত্রা এই ধরনের ঘটনাকে আদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা এবং কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দেন। শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অনানুষ্ঠানিক সালিশ বা অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার পথ বন্ধ করে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুদের পরিচয় গোপন রেখে তাদের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।