ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন রেকর্ড পরিমাণ কমেছে: জরিপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে তার কাজের প্রতি সন্তুষ্টির হার নেমে এসেছে মাত্র ৩১ শতাংশে। ট্রাম্পের দুই মেয়াদের দীর্ঘ শাসনকালে এটিই তার জনসমর্থনের সবচেয়ে সর্বনিম্ন হার বলে জরিপে প্রকাশ পেয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ভোটাররা রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন বলে স্পষ্ট আভাস মিলছে।

অনলাইন ভিত্তিক এই জরিপটি পরিচালনা করা হয় চার দিন ধরে এবং এতে অংশ নেন মোট এক হাজার ৬৭৯ জন মার্কিন নাগরিক, যার মধ্যে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন এক হাজার ২৭৯ জন। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে যে, আজ যদি কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো তবে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪৭ শতাংশই ডেমোক্র্যাট দলকে ভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। অপরদিকে, ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোটার। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থনের এই ব্যবধান ১২ শতাংশ পয়েন্ট, যা বর্তমান নির্বাচনী চক্রে সর্বোচ্চ এবং ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা জোরালো করছে।

কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হলে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ দুই বছরে নীতিগত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা বেশ দুরূহ হয়ে দাঁড়াতে পারে। গত দুই সপ্তাহের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে আরও উঁচুতে পৌঁছেছে, যেখানে রিপাবলিকানদের সমর্থন ৩৭ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে। রিপাবলিকান প্রার্থীদের এই সমর্থন হ্রাসের পেছনে নারী ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাবের বড় ধরনের পরিবর্তন প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া নারী ভোটারদের ৫০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানালেও, রিপাবলিকানদের সমর্থন করতে চেয়েছেন মাত্র ৩২ শতাংশ নারী।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর থেকেই মূলত ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছিল। এই সামরিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায় এবং এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচের ওপর। অর্থনীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে জরিপে অংশ নেওয়া ৬৮ শতাংশ নাগরিক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এমনকি নিজেদের রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যেও ৩৭ শতাংশ এই বিষয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক দল তুলনামূলক ভালো করবে সেই প্রশ্নের জবাবেও ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে রেখেছেন। এই খাতে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ৪০ শতাংশ মানুষ, আর রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা। সার্বিক এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয়

অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা নয়

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন রেকর্ড পরিমাণ কমেছে: জরিপ

প্রকাশিত ০৬:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে তার কাজের প্রতি সন্তুষ্টির হার নেমে এসেছে মাত্র ৩১ শতাংশে। ট্রাম্পের দুই মেয়াদের দীর্ঘ শাসনকালে এটিই তার জনসমর্থনের সবচেয়ে সর্বনিম্ন হার বলে জরিপে প্রকাশ পেয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ভোটাররা রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন বলে স্পষ্ট আভাস মিলছে।

অনলাইন ভিত্তিক এই জরিপটি পরিচালনা করা হয় চার দিন ধরে এবং এতে অংশ নেন মোট এক হাজার ৬৭৯ জন মার্কিন নাগরিক, যার মধ্যে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন এক হাজার ২৭৯ জন। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে যে, আজ যদি কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো তবে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪৭ শতাংশই ডেমোক্র্যাট দলকে ভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। অপরদিকে, ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোটার। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থনের এই ব্যবধান ১২ শতাংশ পয়েন্ট, যা বর্তমান নির্বাচনী চক্রে সর্বোচ্চ এবং ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা জোরালো করছে।

কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হলে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ দুই বছরে নীতিগত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা বেশ দুরূহ হয়ে দাঁড়াতে পারে। গত দুই সপ্তাহের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে আরও উঁচুতে পৌঁছেছে, যেখানে রিপাবলিকানদের সমর্থন ৩৭ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে। রিপাবলিকান প্রার্থীদের এই সমর্থন হ্রাসের পেছনে নারী ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাবের বড় ধরনের পরিবর্তন প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া নারী ভোটারদের ৫০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানালেও, রিপাবলিকানদের সমর্থন করতে চেয়েছেন মাত্র ৩২ শতাংশ নারী।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর থেকেই মূলত ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছিল। এই সামরিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায় এবং এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচের ওপর। অর্থনীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে জরিপে অংশ নেওয়া ৬৮ শতাংশ নাগরিক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এমনকি নিজেদের রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যেও ৩৭ শতাংশ এই বিষয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক দল তুলনামূলক ভালো করবে সেই প্রশ্নের জবাবেও ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে রেখেছেন। এই খাতে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ৪০ শতাংশ মানুষ, আর রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা। সার্বিক এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।