ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ভুয়া জরিপের ফাঁদ, আস্থার সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নামসর্বস্ব কিছু প্রতিষ্ঠানের বানোয়াট রাজনৈতিক জরিপ প্রকাশের ঘটনা ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ‘ওয়েজউড পোলস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি স্বীকার করেছে যে প্রতিযোগিতপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলো নিয়ে তাদের প্রকাশিত সব পরিসংখ্যানই ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এই জালিয়াতি ধরা পড়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলে এবং বিষয়টিকে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বলে দাবি করে। তবে তাদের এই স্বীকারোক্তির আগেই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’সহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব ভুয়া তথ্য স্থান পায়। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পুরো ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভোটারদের আস্থা মারাত্মকভাবে সংকটের মুখে পড়েছে।

এই বানোয়াট জরিপগুলোর কারণে মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন প্রার্থী বাস্তব ক্ষতির সম্মুখীন হন। মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী ম্যালোরি ম্যাকমোরো জানান যে এমন একটি ভুয়া জরিপে তার সমর্থন তলানিতে দেখানোয় তার পুরো প্রচারাভিযান ধসে পড়েছিল। এর ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায় এবং তহবিলের উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। জালিয়াতি প্রকাশ পাওয়ার পর ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো পুরো নির্বাচনকালীন জরিপ ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে শুরু করে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই সুযোগে নিউ ইয়র্ক টাইমসের কঠোর সমালোচনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা বলেন।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভুয়া জরিপের এই বিষয়টিকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মতো কোনো নির্দিষ্ট ফেডারেল আইন যুক্তরাষ্ট্রে নেই। ফলে আইন বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের অপচেষ্টাকে পণ্য ও তারবার্তা সংক্রান্ত জালিয়াতি হিসেবে বিবেচনা করে বিচার করার দাবি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার সতর্ক করে বলেছেন যে ভুয়া জরিপ প্রচার করলে সম্প্রচারমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। তবে আরেক কমিশনার আনা গোমেজ মনে করেন, সরল বিশ্বাসে তথ্য প্রচারকারী গণমাধ্যমের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অনুচিত।

এমন পরিস্থিতিতে আইনি সুরক্ষার স্পষ্ট কাঠামোর অভাবে গণমাধ্যম ও সাধারণ ভোটারদের আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জরিপ পরিচালক মার্ক বালদাসারে জানিয়েছেন, যেকোনো জরিপ বিশ্বাস করার আগে তার স্বচ্ছতা, অর্থায়নের উৎস এবং পদ্ধতি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। ভুয়া জরিপের এই অপব্যবহার রোধ করা না গেলে তা ভবিষ্যতে পুরো গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

জনপ্রিয়

কালিয়াকৈরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ভুয়া জরিপের ফাঁদ, আস্থার সংকট

প্রকাশিত ০৫:৫২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নামসর্বস্ব কিছু প্রতিষ্ঠানের বানোয়াট রাজনৈতিক জরিপ প্রকাশের ঘটনা ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ‘ওয়েজউড পোলস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি স্বীকার করেছে যে প্রতিযোগিতপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলো নিয়ে তাদের প্রকাশিত সব পরিসংখ্যানই ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এই জালিয়াতি ধরা পড়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলে এবং বিষয়টিকে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বলে দাবি করে। তবে তাদের এই স্বীকারোক্তির আগেই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’সহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব ভুয়া তথ্য স্থান পায়। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পুরো ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভোটারদের আস্থা মারাত্মকভাবে সংকটের মুখে পড়েছে।

এই বানোয়াট জরিপগুলোর কারণে মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন প্রার্থী বাস্তব ক্ষতির সম্মুখীন হন। মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী ম্যালোরি ম্যাকমোরো জানান যে এমন একটি ভুয়া জরিপে তার সমর্থন তলানিতে দেখানোয় তার পুরো প্রচারাভিযান ধসে পড়েছিল। এর ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায় এবং তহবিলের উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। জালিয়াতি প্রকাশ পাওয়ার পর ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো পুরো নির্বাচনকালীন জরিপ ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে শুরু করে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই সুযোগে নিউ ইয়র্ক টাইমসের কঠোর সমালোচনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা বলেন।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভুয়া জরিপের এই বিষয়টিকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মতো কোনো নির্দিষ্ট ফেডারেল আইন যুক্তরাষ্ট্রে নেই। ফলে আইন বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের অপচেষ্টাকে পণ্য ও তারবার্তা সংক্রান্ত জালিয়াতি হিসেবে বিবেচনা করে বিচার করার দাবি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার সতর্ক করে বলেছেন যে ভুয়া জরিপ প্রচার করলে সম্প্রচারমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। তবে আরেক কমিশনার আনা গোমেজ মনে করেন, সরল বিশ্বাসে তথ্য প্রচারকারী গণমাধ্যমের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অনুচিত।

এমন পরিস্থিতিতে আইনি সুরক্ষার স্পষ্ট কাঠামোর অভাবে গণমাধ্যম ও সাধারণ ভোটারদের আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জরিপ পরিচালক মার্ক বালদাসারে জানিয়েছেন, যেকোনো জরিপ বিশ্বাস করার আগে তার স্বচ্ছতা, অর্থায়নের উৎস এবং পদ্ধতি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। ভুয়া জরিপের এই অপব্যবহার রোধ করা না গেলে তা ভবিষ্যতে পুরো গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।