অর্থনীতি ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ক্লাস্টারভিত্তিক সমন্বিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা জানান, এককভাবে কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং এর জন্য আঞ্চলিক সংযোগ জরুরি। কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এই সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক জোটের উদাহরণ টেনে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে নেপাল এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো তাদের পরিবহন ব্যয় ও সময় কমাতে পারে। তিনি মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের মতো প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়।
বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়েদুল করিম জানান, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিস্তৃত না করলে অগ্রগতি টেকসই হবে না। সেমিনারে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ আশরাফউজ্জামান কৌশলগত তেলের মজুদ বাড়ানো এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাহাদাত হোসেন পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে নগর সরকার বা সিটি গভর্নমেন্ট গঠনের পক্ষে মত দেন।
প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া কোনো মেগা প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে জনস্বার্থ এবং সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের দাবি জানান। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত বা কম প্রয়োজনীয় প্রকল্পের কারণে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বেশি জরুরি। এই আঞ্চলিক সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী ও সংবাদকর্মীগণ অংশ নেন।




































