ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের পথে অগ্রযাত্রা: আনসার–ভিডিপির জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম Logo কুবিতে উত্তরবঙ্গ ছাত্র পরিষদের নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনুমোদন, উল্লাসে মুখর শিক্ষার্থীরা Logo জাবির কলতান বিদ্যানিকেতনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত Logo কুবির শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের নতুন প্রভোস্ট ড. জনি আলম Logo অধ্যাদেশে ব্যত্যয় ঘটলে যমুনা-সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের Logo ইশরাকের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির আহবায়ক সিরাজ, সদস্য সচিব কানন Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনুমোদন Logo ব্যাটারির দুশ্চিন্তা কমাতে ১০,০০১ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ‘লং-লাইফ টাইটান ব্যাটারি’ আনছে রিয়েলমি Logo বিনামূল্যে ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড পাচ্ছে ইবি শিক্ষার্থীরা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করে বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করেছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

২০২৫ সালের বিশ্ব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুলাই ও আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে তিন সপ্তাহের আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্বিচার গুলিতে ১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার।

৫৪৬ পৃষ্ঠার বিশ্ব প্রতিবেদনে ১০০টিরও বেশি দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। প্রারম্ভিক নিবন্ধে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো বিরোধী রাজনৈতিক নেতা–কর্মী এবং সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে আটক করেছে, তাদের দমন করেছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনী নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, বাস্তুচ্যুত করেছে এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে বাধা দিয়েছে।

তিরানা হাসান বলেন, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ৭০টিরও বেশি দেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে কর্তৃত্ববাদী নেতারা তাদের বৈষম্যমূলক বক্তব্য ও নীতির মাধ্যমে প্রভাব বাড়িয়েছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভবিষ্যতের পথে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া এই অগ্রগতি নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে।’

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী দলের সমর্থক ও সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, তাদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা এবং আইনগত সহায়তা না দেয়ার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের জোরপূর্বক গুমবিরোধী কনভেনশনে সই করেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহায়তায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ‘কুখ্যাত’ আখ্যা দিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের পথে অগ্রযাত্রা: আনসার–ভিডিপির জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

প্রকাশিত ০৩:২৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করে বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করেছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

২০২৫ সালের বিশ্ব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুলাই ও আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে তিন সপ্তাহের আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্বিচার গুলিতে ১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার।

৫৪৬ পৃষ্ঠার বিশ্ব প্রতিবেদনে ১০০টিরও বেশি দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। প্রারম্ভিক নিবন্ধে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো বিরোধী রাজনৈতিক নেতা–কর্মী এবং সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে আটক করেছে, তাদের দমন করেছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনী নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, বাস্তুচ্যুত করেছে এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে বাধা দিয়েছে।

তিরানা হাসান বলেন, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ৭০টিরও বেশি দেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে কর্তৃত্ববাদী নেতারা তাদের বৈষম্যমূলক বক্তব্য ও নীতির মাধ্যমে প্রভাব বাড়িয়েছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভবিষ্যতের পথে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া এই অগ্রগতি নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে।’

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী দলের সমর্থক ও সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, তাদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা এবং আইনগত সহায়তা না দেয়ার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের জোরপূর্বক গুমবিরোধী কনভেনশনে সই করেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহায়তায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ‘কুখ্যাত’ আখ্যা দিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে।