ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সৌদিয়া বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বিডিটিকেটসে Logo রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো Logo কেন্দ্রীয়ভাবে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার আয়োজন করবে যবিপ্রবি Logo জাবিতে গাইবান্ধা জেলা সমিতির ইফতার মাহফিল, নবীন-প্রবীণদের মিলনমেলা Logo কুবিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে গণ-ইফতার  Logo কুবির আর্ট অ্যান্ড হেরিটেজ সোসাইটির নেতৃত্বে মুজাহিদ–লাবিব Logo বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইনক্লুসিভ জাহাঙ্গীরনগর’র ইফতার মাহফিল Logo হাবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল Logo কঠোর সমালোচনা’ না করে সরকারকে সময় দেওয়া উচিত: ডিএসসিসি প্রশাসক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করে বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করেছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

২০২৫ সালের বিশ্ব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুলাই ও আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে তিন সপ্তাহের আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্বিচার গুলিতে ১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার।

৫৪৬ পৃষ্ঠার বিশ্ব প্রতিবেদনে ১০০টিরও বেশি দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। প্রারম্ভিক নিবন্ধে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো বিরোধী রাজনৈতিক নেতা–কর্মী এবং সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে আটক করেছে, তাদের দমন করেছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনী নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, বাস্তুচ্যুত করেছে এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে বাধা দিয়েছে।

তিরানা হাসান বলেন, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ৭০টিরও বেশি দেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে কর্তৃত্ববাদী নেতারা তাদের বৈষম্যমূলক বক্তব্য ও নীতির মাধ্যমে প্রভাব বাড়িয়েছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভবিষ্যতের পথে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া এই অগ্রগতি নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে।’

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী দলের সমর্থক ও সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, তাদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা এবং আইনগত সহায়তা না দেয়ার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের জোরপূর্বক গুমবিরোধী কনভেনশনে সই করেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহায়তায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ‘কুখ্যাত’ আখ্যা দিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

সৌদিয়া বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বিডিটিকেটসে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

প্রকাশিত ০৩:২৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করে বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করেছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

২০২৫ সালের বিশ্ব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুলাই ও আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে তিন সপ্তাহের আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্বিচার গুলিতে ১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার।

৫৪৬ পৃষ্ঠার বিশ্ব প্রতিবেদনে ১০০টিরও বেশি দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। প্রারম্ভিক নিবন্ধে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো বিরোধী রাজনৈতিক নেতা–কর্মী এবং সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে আটক করেছে, তাদের দমন করেছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনী নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, বাস্তুচ্যুত করেছে এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে বাধা দিয়েছে।

তিরানা হাসান বলেন, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ৭০টিরও বেশি দেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে কর্তৃত্ববাদী নেতারা তাদের বৈষম্যমূলক বক্তব্য ও নীতির মাধ্যমে প্রভাব বাড়িয়েছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভবিষ্যতের পথে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া এই অগ্রগতি নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে।’

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী দলের সমর্থক ও সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, তাদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা এবং আইনগত সহায়তা না দেয়ার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের জোরপূর্বক গুমবিরোধী কনভেনশনে সই করেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহায়তায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ‘কুখ্যাত’ আখ্যা দিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে।