বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) তে বৈষম্যহীন শিক্ষক নিবন্ধন (প্রভাষক- আল কুরআন, আল হাদিস, দা’ওয়াহ, আরবি সাহিত্য ও আল ফিকহ) পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে বারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে সংশ্লিষ্ট পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা বৈষম্য দূর করতে তিন দফা দাবি জানান এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে তারা উপাচার্য, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি ও ডিনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবির আহ্বায়ক এস এম সুইট ও শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, খেলাফত ছাত্র মজলিসের শাখা সভাপতি সাদেক আহমেদসহ থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে ”২৪ এর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই”, “শহীদের বাংলায়, দ্বিচারিতার সুযোগ নেই”, “বৈষম্য দূর কর, মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত কর”,“একই পদ, একই কাজ-ভিন্ন নীতি কেন আজ?”,“ধর্মীয় বিষয়ে অন্যায় নীতি,শিক্ষা বিভাগ জবাব দাও”,“নীতির নামে বৈষম্য, চলবে না চলবেনা”, “অনার্সে যোগ্যতা, তবু কেন বঞ্চনা?”, অনার্স দিয়ে বিসিএস হয়, প্রভাষক (আরবী) কেনো নয়?”, ”ধর্মীয় বিষয়ে অন্যায় নীতি, মানিনা, মানবো না”, “একই পদে দুই নীতি, চলবে না চলবে না।”
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- মাদরাসায় প্রভাষক পদে আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে অন্যান্য বিষয়ের মতো আরবি ও ইসলাম শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতেও স্নাতকোত্তরের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে শুধু স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিকেই আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করা, সহকারী মৌলভী পদে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে বিএড/এমএড-এর পূর্বশর্ত ব্যতিরেকেই ১০ম গ্রেডে বেতন প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার ব্যাপকতা ও মানদণ্ড বিবেচনায় কামিল স্তরে মুহাদ্দিস, মুফাসসির, আদিব ও ফকীহ বিষয়ে অন্তত ৪ জন করে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বিগত সময়ে মাদরাসা এবং ইসলামী শিক্ষার সাথে বৈষম্য দেখে এসেছি। আমরা আর কোন বৈষম্য দেখতে চাই না। অন্য সকল বিষয়ে স্নাতক দিয়ে প্রভাষক পদে আবেদন করা যায়, শুধুমাত্র আরবি ও ইসলামী শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনার্স ডিগ্রি দিয়ে সহকারী মৌলভীতে ১১তম গ্রেড করা হয়েছে, যেটা পূর্বে ১০ম গ্রেড ছিল। একই সাথে দাখিল-আলিমকেও শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে যেটা আগে ছিল না। আমরা এ সকল বৈষম্য দূর করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছি। যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে আমরা সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নেমে পড়বো।
আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, হাসিনা দীর্ঘদিন যাবৎ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছে। আমরা দেখেছি, প্রত্যেকটি নীতিমালায় কিভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দমন করা যায় সেই ষড়যন্ত্র হাসিনার ফ্যাসিস্ট রেজিম করেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শতাধিক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী প্রাণ দিলেও মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি বৈষম্য এখনও নিরসন হয়নি। আরবি প্রভাষক পদের আবেদন করার জন্য মাস্টার্স শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ অন্যান্য বিষয়ের প্রভাষক পদে অনার্স হলেই আবেদন করা যায়। স্পষ্টত এটা মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি বৈষম্য।
শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করার যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বৈষম্যকারীরা এখনো স্তরে স্তরে বসে থেকে ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অন্যান্য সাবজেক্টগুলো থেকে শুধুমাত্র স্নাতক পাশ করে প্রভাষক হতে পারে। তবে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেন বৈষম্য? ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে কেন বৈষম্য? এর জবাব আমরা এনটিআরসিএ-র কাছে চাই। মাদ্রাসা শিক্ষার শিক্ষক নিবন্ধনের যে সংখ্যা ছিল সেটাও কমিয়ে আনা হয়েছে, শুধুমাত্র এই দেশ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষাকে চিরতরে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা এগুলোর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জুলাই মাসে শুধু রক্তই দেয়নি, বরং ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলন পর্যন্ত সব স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের অবদান রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, তারা বারবার রক্ত দেবে কিন্তু বৈষম্যের শিকার কেন হতেই থাকবে? এ আন্দোলনে যেন আর কোনো প্রাণ না ঝরে। এনটিআরসিএকে বাধ্য করতে আন্দোলন জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনে ইবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে “মার্চ টু এনটিআরসিএ” কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে।”
উল্লেখ্য, এনটিআরসিএর বিগত সার্কুলারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের নাম উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে ‘আল ফিকহ অ্যান্ড ল’ করার কারনে নতুন করে সংযোজন করা হয়নি। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।



















