র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাহিনীটির পোশাকেও পরিবর্তন আনা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের আজ এ তথ্য জানান।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘র্যাবের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন। শিগগিরই এ বিষয়ে সরকারি আদেশ জারি করা হবে। বাহিনীটির পোশাকেও পরিবর্তন আসবে। আপনারা এসআইএফ সদস্যদের নতুন পোশাকে দেখতে পাবেন।’
র্যাব বিলুপ্তির জন্য জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যেই সরকার এই নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিল। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে র্যাবের কাজের ধরণে পরিবর্তন এসেছে। দেড় বছর আগের কাজের মানের সঙ্গে বর্তমানের অনেক পার্থক্য রয়েছে। সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই নাম বদলের সিদ্ধান্ত।
একই ব্রিফিংয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশনস ও পরিকল্পনা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আলী হায়দার সিদ্দিকী জানান, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে যৌথ বাহিনী ১৯৯টি অস্ত্র উদ্ধার এবং ১ হাজার ৮০৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি জানান, তিন বাহিনী থেকে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ২২৩ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মোতায়েনের পর বড় ধরনের অভিযানে ১০৭টি অস্ত্র ও ৬১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার এবং ৮৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাব থেকে খোয়া যাওয়া ৪ হাজার ৪৩২টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া জেলখানা থেকে খোয়া যাওয়া ৬৫টি এবং লাইসেন্স করা ৩২৮টি অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।
সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৭৩১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হায়দার।
পুলিশের ওপর হামলা ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে টিআইবির উদ্বেগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ৫ থেকে ৮ আগস্টের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির অনেক পার্থক্য রয়েছে। পুলিশের মনোবল ও দক্ষতা বেড়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।



















