ঢাকা ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সবার সামনে জকসু সম্পাদককে থাপ্পড়-হুমকির অভিযোগে ছাত্রদলের নেলীর বিরুদ্ধে জিডি Logo বাকৃবিতে ১ম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শেষে আসন ফাঁকা এখনও ৩৯১টি Logo কুবি ছাত্রীর পিছু নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কুমিল্লায় এসে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক উত্যক্তকারী Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo চ্যাংদোলা করে নেতা বের করার ঘটনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদলের ৫ নেতাকে শোকজ Logo এফএমএস বিভাগের নাম ও অনুষদ পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটি, সুপারিশমালা দ্রুত বাস্তবায়ন চায় শিক্ষার্থীরা Logo মুক্ত আলাপ আয়োজন করে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি আইস ব্রেক করেছে – নোবিপ্রবি ভিসি Logo বাকৃবিতে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর সহ বিভিন্ন শিক্ষা ও অফিস সরঞ্জাম বিতরণ  Logo কুবিতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা কার্যক্রমে সুবিধামতো সিদ্ধান্ত নেবে বিভাগগুলো Logo নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতিকে টেনেহিঁচড়ে বের করার চেষ্টা আরেক সহ-সভাপতির

বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ জবি ছাত্রদল আহ্বায়কের বিরুদ্ধে 

বকেয়া টাকা চাওয়া এবং অনিয়ম করে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কিউ জি সামদানি অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সোমবার বিকেলে ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন ছিল। এ সময় হিমেলের অনুসারী সাইফ ও সুমন উল্টো দিক থেকে এসে লাইনের তোয়াক্কা না করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে উপস্থিত চালকরা প্রতিবাদ করলে তারা নিজেদের ‘হিমেলের লোক’ পরিচয় দেন। কর্মচারী জামিল ওয়াহেদ মুহিত অনিয়ম করে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আগের বকেয়া পরিশোধ করতে বললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে সুমন ফোনে মেহেদী হাসান হিমেলকে ডেকে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, হিমেল ঘটনাস্থলে ৫০-৬০ জন অনুসারী নিয়ে এসে মুহিতকে পাশের দিকে নিয়ে মারধর করেন। তাকে উদ্ধার করতে গেলে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বশিরও আহত হন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী জামিল ওয়াহেদ মুহিত বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমন ও সাইফ নামের দুজন লাইন ব্রেক করে মোটরসাইকেল ব্রেক করে বলে ‘এই লোড কর! হিমেল ভাইয়ের বাইক! হিমেল ভাই নারায়ণগঞ্জ যাবে।’ আমি তাকে চিনতে একটা সেলফি তুলে রাখি। আর গত পরশুর বকেয়া ১৫শ টাকা ফেরত চাই। তাতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে জগন্নাথের ছাত্রদলের সভাপতিকে ফোন দেয়। পরে ছাত্রদলের সভাপতি (মেহেদি হাসান হিমেল) এসে আমার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলে। সুমন টাকা কেন দেয়নি বকাবকি করে। পরে আমাকে ক্যামেরার বাইরে নিয়ে দেয়ালের সাথে ঠেকিয়ে ধরে হিমেলসহ ৫০-৬০ জন।

ভুক্তভোগী মুহিত আরো বলেন, হিমেল আমাকে বলে ‘তুই আওয়ামী লীগ করিস? তোর ফোন দে। ঐ সেলফির ছবি ডিলিট কর। ট্রাশ থেকেও ডিলিট কর। একদম ঢুকাইয়া দিমু। তুই এরেস্ট। পেছনে হাত নে। এ ওরে ক্যাম্পাসে নিয়ে চল। কান ধর।’ হিমেল যা বলছিলো, আমি ভয়ে তাই করছিলাম। এ সবের মধ্যেই আমাকে যার যেমন ইচ্ছে চড় থাপ্পড় দিতে শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মচারী বলেন, মুহিত ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে প্রায় ৫০-৬০ জন। পাশে পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল ৫-৬ জন। তাদের কাছে ঘেঁষতে নিষেধ করে জগন্নাথের কয়েকজন। তখন পুলিশ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।

কিউ জি সামদানি এন্ড কোং ফিলিং স্টেশনের মালিক কিউজি ফিরোজ সামদানি পাবলু বলেন, আমরা ব্যবসায়ী মানুষ। এমন ঘটনা আগে কখনো হয়নি। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমি ঘটনার সময় ছিলাম না। পরে এসে শুনি আমার ভাগ্নেকে মারধর করেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছোট ভাই কয়েকজনের সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছিল। পরে মিলমিশ করে দিয়ে আসছি।

মারধরের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, না। ওখানে কোনো মারামারি হয়নি। ভবিষ্যতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝামেলা না হয়, এ ব্যাপারে মালিকের সঙ্গে কথা বলে এসেছি।

জনপ্রিয়

সবার সামনে জকসু সম্পাদককে থাপ্পড়-হুমকির অভিযোগে ছাত্রদলের নেলীর বিরুদ্ধে জিডি

বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ জবি ছাত্রদল আহ্বায়কের বিরুদ্ধে 

প্রকাশিত ০৬:০২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বকেয়া টাকা চাওয়া এবং অনিয়ম করে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কিউ জি সামদানি অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সোমবার বিকেলে ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন ছিল। এ সময় হিমেলের অনুসারী সাইফ ও সুমন উল্টো দিক থেকে এসে লাইনের তোয়াক্কা না করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে উপস্থিত চালকরা প্রতিবাদ করলে তারা নিজেদের ‘হিমেলের লোক’ পরিচয় দেন। কর্মচারী জামিল ওয়াহেদ মুহিত অনিয়ম করে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আগের বকেয়া পরিশোধ করতে বললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে সুমন ফোনে মেহেদী হাসান হিমেলকে ডেকে আনেন। অভিযোগ রয়েছে, হিমেল ঘটনাস্থলে ৫০-৬০ জন অনুসারী নিয়ে এসে মুহিতকে পাশের দিকে নিয়ে মারধর করেন। তাকে উদ্ধার করতে গেলে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বশিরও আহত হন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী জামিল ওয়াহেদ মুহিত বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমন ও সাইফ নামের দুজন লাইন ব্রেক করে মোটরসাইকেল ব্রেক করে বলে ‘এই লোড কর! হিমেল ভাইয়ের বাইক! হিমেল ভাই নারায়ণগঞ্জ যাবে।’ আমি তাকে চিনতে একটা সেলফি তুলে রাখি। আর গত পরশুর বকেয়া ১৫শ টাকা ফেরত চাই। তাতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে জগন্নাথের ছাত্রদলের সভাপতিকে ফোন দেয়। পরে ছাত্রদলের সভাপতি (মেহেদি হাসান হিমেল) এসে আমার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলে। সুমন টাকা কেন দেয়নি বকাবকি করে। পরে আমাকে ক্যামেরার বাইরে নিয়ে দেয়ালের সাথে ঠেকিয়ে ধরে হিমেলসহ ৫০-৬০ জন।

ভুক্তভোগী মুহিত আরো বলেন, হিমেল আমাকে বলে ‘তুই আওয়ামী লীগ করিস? তোর ফোন দে। ঐ সেলফির ছবি ডিলিট কর। ট্রাশ থেকেও ডিলিট কর। একদম ঢুকাইয়া দিমু। তুই এরেস্ট। পেছনে হাত নে। এ ওরে ক্যাম্পাসে নিয়ে চল। কান ধর।’ হিমেল যা বলছিলো, আমি ভয়ে তাই করছিলাম। এ সবের মধ্যেই আমাকে যার যেমন ইচ্ছে চড় থাপ্পড় দিতে শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মচারী বলেন, মুহিত ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে প্রায় ৫০-৬০ জন। পাশে পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল ৫-৬ জন। তাদের কাছে ঘেঁষতে নিষেধ করে জগন্নাথের কয়েকজন। তখন পুলিশ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।

কিউ জি সামদানি এন্ড কোং ফিলিং স্টেশনের মালিক কিউজি ফিরোজ সামদানি পাবলু বলেন, আমরা ব্যবসায়ী মানুষ। এমন ঘটনা আগে কখনো হয়নি। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমি ঘটনার সময় ছিলাম না। পরে এসে শুনি আমার ভাগ্নেকে মারধর করেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছোট ভাই কয়েকজনের সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছিল। পরে মিলমিশ করে দিয়ে আসছি।

মারধরের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, না। ওখানে কোনো মারামারি হয়নি। ভবিষ্যতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঝামেলা না হয়, এ ব্যাপারে মালিকের সঙ্গে কথা বলে এসেছি।