ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo অটোরিকশা রাখা নিয়ে মারধরের প্রতিবাদ করায় এসবি সদস্যকে হত্যা Logo শেয়ারবাজারে ধস, ভেঙে গেল ৬ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট Logo বিচারকদের মতো শিক্ষকদের জন্যও পৃথক পে-স্কেল হবে: শিক্ষামন্ত্রী Logo সোমবার থেকে আমানতের মূল টাকা ফেরত পাবেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা Logo পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় মূল হোতা আটক Logo বিদেশে জাতীয় দলের খেলা দেখার সুযোগ পেলেন মেহেরপুরের নাফিজ Logo গোপালগ‌ঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাঁদে পড়ে নিহত ৩, আহত ৩০ Logo প্রতিবাদ করায় প্রাণ যায় এসবি সদস্যের, ছেলের কারখানাতেও হামলা Logo ডাক্তার দেখানোর আগে শরীর সম্পর্কে যে তথ্যগুলো লিখে রাখা জরুরি? Logo ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুতিনের ৩ ঘণ্টার বৈঠক

তীব্র দাবদাহের পর কিশোরগঞ্জে স্বস্তির বৃষ্টি

কিশোরগঞ্জে কয়েকদিনের টানা তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অসহনীয় গরমের পর এ বৃষ্টি জনজীবনে এনে দিয়েছে স্বস্তি ও প্রশান্তি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কিশোরগঞ্জ জেলায় তাপমাত্রা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। দিনের বেলায় প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাইছিল না। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকে কোমল পানীয়, ডাবের পানি, তালশাঁস ও বিভিন্ন ঠান্ডা খাবারের ওপর নির্ভর করছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই আকাশে মেঘের আনাগোনা শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কালো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ। এরপর ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায় ধুলাবালি, কমতে শুরু করে তাপমাত্রা। এতে মানুষের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি।

জেলা সদরের নগুয়া এলাকার বাসিন্দা ফারজুল মিয়া বলেন, “গত কয়েকদিনের গরমে যাইতাই অবস্থা ছিল। ঘর থেকে বের হলেই শরীর ঘেমে যেত। অস্বস্তি নিয়ে চলাফেরা করেছি। বলতে গেলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আজ বৃষ্টি হওয়ায় খুব ভালো লাগছে। মনে অনেক প্রশান্তি লাগছে।”

রিকশাচালক সুরুজ মিয়া বলেন, “রোদ আর গরমের কারণে কয়েকদিন রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। দুপুরের দিকে রাস্তায় থাকা যেত না। আজ বৃষ্টি হওয়ার কারণে যাত্রী কম। আয়ও কম হবে। কিন্তু তারপরও গরম থেকে একটু শান্তি পাওয়ায় ভালো লাগছে।”

কলেজ শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “কদিন ধরে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলাম। দিনে যেমন গরম, রাতেও তেমন অস্বস্তি ছিল। ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিলাম না, পড়াশোনাতেও মন বসছিল না। আজকের বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আশা করছি তাপমাত্রাও কমে আসবে।”

বৃষ্টির সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখা যায়। অনেকে ছাতা ছাড়াই বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করেন। তবে বৃষ্টির কারণে শহরের কয়েকটি নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়েছে। জেলা শহরের বত্রিশ, নূরানী সড়কসহ কয়েকটি এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যানবাহন চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো কিশোরগঞ্জেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। ফলে আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয়

অটোরিকশা রাখা নিয়ে মারধরের প্রতিবাদ করায় এসবি সদস্যকে হত্যা

তীব্র দাবদাহের পর কিশোরগঞ্জে স্বস্তির বৃষ্টি

প্রকাশিত ০৪:৪৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জে কয়েকদিনের টানা তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অসহনীয় গরমের পর এ বৃষ্টি জনজীবনে এনে দিয়েছে স্বস্তি ও প্রশান্তি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কিশোরগঞ্জ জেলায় তাপমাত্রা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। দিনের বেলায় প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাইছিল না। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকে কোমল পানীয়, ডাবের পানি, তালশাঁস ও বিভিন্ন ঠান্ডা খাবারের ওপর নির্ভর করছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই আকাশে মেঘের আনাগোনা শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কালো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ। এরপর ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায় ধুলাবালি, কমতে শুরু করে তাপমাত্রা। এতে মানুষের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি।

জেলা সদরের নগুয়া এলাকার বাসিন্দা ফারজুল মিয়া বলেন, “গত কয়েকদিনের গরমে যাইতাই অবস্থা ছিল। ঘর থেকে বের হলেই শরীর ঘেমে যেত। অস্বস্তি নিয়ে চলাফেরা করেছি। বলতে গেলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আজ বৃষ্টি হওয়ায় খুব ভালো লাগছে। মনে অনেক প্রশান্তি লাগছে।”

রিকশাচালক সুরুজ মিয়া বলেন, “রোদ আর গরমের কারণে কয়েকদিন রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। দুপুরের দিকে রাস্তায় থাকা যেত না। আজ বৃষ্টি হওয়ার কারণে যাত্রী কম। আয়ও কম হবে। কিন্তু তারপরও গরম থেকে একটু শান্তি পাওয়ায় ভালো লাগছে।”

কলেজ শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “কদিন ধরে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলাম। দিনে যেমন গরম, রাতেও তেমন অস্বস্তি ছিল। ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিলাম না, পড়াশোনাতেও মন বসছিল না। আজকের বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আশা করছি তাপমাত্রাও কমে আসবে।”

বৃষ্টির সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখা যায়। অনেকে ছাতা ছাড়াই বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করেন। তবে বৃষ্টির কারণে শহরের কয়েকটি নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়েছে। জেলা শহরের বত্রিশ, নূরানী সড়কসহ কয়েকটি এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যানবাহন চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো কিশোরগঞ্জেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। ফলে আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।