ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস নিয়ে কুবি কুইজ সোসাইটির কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত Logo ফুলেল শুভেচ্ছা না নিয়ে দায়িত্বশীলতার বার্তা দিলেন গোবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপাচার্য Logo জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে সন্ধ্যা থেকে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ Logo রাবিতে দুই প্রফেসরের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo কুবি পরিসংখ্যান সমিতির নেতৃত্বে হামীম-রাহীম Logo জুলাই শহিদদের স্মরণে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্জ্বলন Logo চরভদ্রাসনে সংসদ সদস্য বাবুলের উপস্থিতিতে ৫০০ দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ Logo গোবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল সাদাত Logo পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে শহীদ আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের ছবি

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার আতঙ্ক: ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ড ও ভিডিও!

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল ও যৌন হয়রানিমূলক পোস্ট, ভিডিও ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়ার এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে অন্তত ১০টিরও বেশি ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে এসব আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, যা পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র সাইবার আতঙ্ক তৈরি করেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ২০২৬ সালের ১৮ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মাত্র এক মাসেই ‘আমাদের ত্রিশাল’ নামের একটি পেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ২৩টি পোস্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল নারী-সংশ্লিষ্ট। এসব পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অসংখ্য ব্যবহারকারী চরম অশালীন, বিদ্বেষপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে হয়রানির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছেন. ‘আমাদের ত্রিশাল’ পেজ ও গ্রুপ ছাড়াও মোস্তাকিম হাসান, মানিক হোসেন আকন্দ, শাহীন আলম, মিলন ২০০২, কাউসার আলী ও আল রিফাতসহ বেশ কিছু ব্যক্তিগত আইডি থেকে এই পরিকল্পিত সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই ধারাবাহিক হয়রানি ছাত্রীদের মানসিক সুস্থতা ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে‌।

এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এক ভুক্তভোগী ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আনার পরও তাকে কেবল অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে এবং দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি. মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত এই শিক্ষার্থী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই বিষয়ের যদি সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তাহলে আমার জীবনের দায়ভার শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের থাকবে।”

তবে সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় থানার বক্তব্য নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান জোনি দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং সাইবার পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে ত্রিশাল থানা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগই করা হয়নি; লিখিত অভিযোগ পেলে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। তিনি আইসিটি সেল ও প্রক্টরিয়াল বডিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন. উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের পেজগুলো নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট পেজগুলোর অ্যাডমিন কারা এবং কেন ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী পোস্ট অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী আহসান হাবীব জানান, সাইবার স্পেসে কাউকে যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে তথ্য, ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এই অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই নোংরা সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

জনপ্রিয়

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস নিয়ে কুবি কুইজ সোসাইটির কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার আতঙ্ক: ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ড ও ভিডিও!

প্রকাশিত ১২:৫০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল ও যৌন হয়রানিমূলক পোস্ট, ভিডিও ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়ার এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে অন্তত ১০টিরও বেশি ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে এসব আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, যা পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র সাইবার আতঙ্ক তৈরি করেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ২০২৬ সালের ১৮ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মাত্র এক মাসেই ‘আমাদের ত্রিশাল’ নামের একটি পেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ২৩টি পোস্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল নারী-সংশ্লিষ্ট। এসব পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অসংখ্য ব্যবহারকারী চরম অশালীন, বিদ্বেষপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে হয়রানির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছেন. ‘আমাদের ত্রিশাল’ পেজ ও গ্রুপ ছাড়াও মোস্তাকিম হাসান, মানিক হোসেন আকন্দ, শাহীন আলম, মিলন ২০০২, কাউসার আলী ও আল রিফাতসহ বেশ কিছু ব্যক্তিগত আইডি থেকে এই পরিকল্পিত সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই ধারাবাহিক হয়রানি ছাত্রীদের মানসিক সুস্থতা ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে‌।

এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এক ভুক্তভোগী ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আনার পরও তাকে কেবল অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে এবং দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি. মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত এই শিক্ষার্থী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই বিষয়ের যদি সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তাহলে আমার জীবনের দায়ভার শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের থাকবে।”

তবে সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় থানার বক্তব্য নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান জোনি দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং সাইবার পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে ত্রিশাল থানা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগই করা হয়নি; লিখিত অভিযোগ পেলে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। তিনি আইসিটি সেল ও প্রক্টরিয়াল বডিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন. উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের পেজগুলো নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট পেজগুলোর অ্যাডমিন কারা এবং কেন ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী পোস্ট অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী আহসান হাবীব জানান, সাইবার স্পেসে কাউকে যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে তথ্য, ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এই অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই নোংরা সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।