বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ক্যাম্পাস সাংবাদিক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন নভোথিয়েটারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের ফেসবুক পেজে গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরফান সিফাতকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে কথা বলার অজুহাতে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়া পোস্টের ক্যাম্পাস সাংবাদিক আবু উবাইদা এবং সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবনকে নভোথিয়েটারের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সিফাতের নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
খবর পেয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের উদ্ধার করতে গেলে তাদেরও মারধরের শিকার হতে হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকপ্রশাসন, কোস্টাল অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা লাঠি, রড, পাইপ ও ইটপাটকেল নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালায়। এতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও এশিয়া পোস্টের ক্যাম্পাস সাংবাদিক আবু উবাইদা, আব্দুল কাদের জীবনসহ একই বিভাগের অন্তত আটজন শিক্ষার্থী। এছাড়া বাংলা, লোকপ্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), হিসাববিজ্ঞান ও ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
আহতদের মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অমিও মণ্ডল, রিপন মণ্ডল ও নাহিদ ইসলাম, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল কাদের ইমন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তানজিল, সিএসই বিভাগের সিফাত, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মারুফ এবং ইংরেজি বিভাগের আহনাফ রয়েছেন।
এদিকে, গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্তসহ একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হামলার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরও কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের সময় ‘আজকালের কণ্ঠ’-এর সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ‘দৈনিক আমার দেশ’-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাসুদ রানার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলায় নেতৃত্ব দেন গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরফান সিফাত এবং একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসান। এছাড়া ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইমতি, রিয়াজ ও নাইমসহ আরও ৪০ থেকে ৫০ জন হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবন বলেন, “আমার ওপর ২০ থেকে ৩০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা করেছে। আমি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আরফান সিফাত এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বিজয় কৃষ্ণ সাহা বলেন, “আমার কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। গণিত বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অফিসে বসবে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা ও সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের বিভাগের ৮ থেকে ৯ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “উভয় পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ আহ্বান করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”






























