ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে জিয়া উদ্যানে কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করলেন ছাত্রদল নেতা মিনার Logo খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল Logo তীব্র লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটে বিপাকে কুবির শিক্ষার্থীরা Logo যে আমলে বান্দার গুনাহ ঝরে যায় Logo ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে দলীয় সুপারিশে ছাত্রদল নেতা ও তার প্রেমিকার নাম Logo বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামারে বাড়ছে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া Logo লোডশেডিং সমাধানে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যানি, সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রী! Logo এসএসসি পাসেই বেসরকারি সংস্থায় চাকরি Logo ছয় মাস পর্যটক যাতায়াত বন্ধ: নতুন প্রাণ পেলো সেন্ট মার্টিন

২১ বছর নিখোঁজ থাকার পর জীবিত ফিরলেন রতন! ওদিকে মারা গেছেন বাবা

উন্নত জীবনের আশায় ২১ বছর আগে ঘর ছেড়েছিলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রতন মৃধা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দীর্ঘ ১০ বছর কাটাতে হয়েছে মালয়েশিয়ার অন্ধকার কারাগারে। অবশেষে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শনিবার রাতে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে নিজ উপজেলা কচুয়ার মঘিয়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বাড়িতে ফিরলে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। তবে দীর্ঘ দুই দশক পর রতন জীবিত ফিরলেও, ততদিনে ছেলের ফেরার পথ চেয়ে থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন তার বাবা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২১ বছর আগে রতন মৃধাকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র মৃধা ও বড় ভাই নীলরতন মৃধা। পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ মেলেনি। একপর্যায়ে রতনের বাবা মারা যান। দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, রতন মালয়েশিয়ার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে টানা ১০ বছর বন্দিজীবন কাটানোর পর সরকারি উদ্যোগে অবশেষে তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান।

স্থানীয় বাসিন্দা জোবায়ের রানা জানান, রতনের বন্দিত্বের বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি সহযোগিতায় তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

ছেলের ফিরে আসায় অশ্রুসিক্ত চোখে রতনের মা পুষ্প মৃধা বলেন, “বছরের পর বছর ছেলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থেকেছি। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি। আমাদের ঘরে আর দীর্ঘশ্বাস নেই।” দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর রতনের এই ঘরে ফেরার ঘটনায় আন্ধারমানিক গ্রামে যেমন আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি বাবার অনুপস্থিতি সবাইকে কাঁদিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা রতনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জনপ্রিয়

খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে জিয়া উদ্যানে কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করলেন ছাত্রদল নেতা মিনার

২১ বছর নিখোঁজ থাকার পর জীবিত ফিরলেন রতন! ওদিকে মারা গেছেন বাবা

প্রকাশিত ০৬:০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

উন্নত জীবনের আশায় ২১ বছর আগে ঘর ছেড়েছিলেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রতন মৃধা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দীর্ঘ ১০ বছর কাটাতে হয়েছে মালয়েশিয়ার অন্ধকার কারাগারে। অবশেষে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শনিবার রাতে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে নিজ উপজেলা কচুয়ার মঘিয়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বাড়িতে ফিরলে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। তবে দীর্ঘ দুই দশক পর রতন জীবিত ফিরলেও, ততদিনে ছেলের ফেরার পথ চেয়ে থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন তার বাবা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২১ বছর আগে রতন মৃধাকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র মৃধা ও বড় ভাই নীলরতন মৃধা। পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ মেলেনি। একপর্যায়ে রতনের বাবা মারা যান। দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, রতন মালয়েশিয়ার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে টানা ১০ বছর বন্দিজীবন কাটানোর পর সরকারি উদ্যোগে অবশেষে তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান।

স্থানীয় বাসিন্দা জোবায়ের রানা জানান, রতনের বন্দিত্বের বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি সহযোগিতায় তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

ছেলের ফিরে আসায় অশ্রুসিক্ত চোখে রতনের মা পুষ্প মৃধা বলেন, “বছরের পর বছর ছেলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থেকেছি। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি। আমাদের ঘরে আর দীর্ঘশ্বাস নেই।” দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর রতনের এই ঘরে ফেরার ঘটনায় আন্ধারমানিক গ্রামে যেমন আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি বাবার অনুপস্থিতি সবাইকে কাঁদিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা রতনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।