ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মাদারীপুরে শতাধিক বাড়িতে হামলা-লুটপাট Logo রোমানদের ১৬০০ বছরের পুরনো কাচশিল্পের রহস্য উদ্ধার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না: নাহিদ ইসলাম Logo ইবিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন’ কর্মশালা: গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্ত Logo হালকা রংয়ের ঘরে আভিজাত্যের ছোঁয়া দেওয়ার কৌশল Logo দেশ গঠনে প্রতিটি প্রবাসীকে ‘অ্যাম্বাসেডর’ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo মালয়েশিয়ায় হুন্ডি চক্রের সন্ধান, ৮ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার Logo জাতীয় সাঁতারে প্রথম দিনে ৬ রেকর্ড Logo আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে: শিক্ষামন্ত্রী Logo স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বের করার ইসরায়েলি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের

গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার যে প্রস্তাব ইসরায়েলি কর্মকর্তারা উত্থাপন করেছিলেন, তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে এই অবস্থান স্পষ্টতই এক বিরল মতবিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গাজার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুই মিত্র দেশের দৃষ্টিভঙ্গির এই ফারাক আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, শীর্ষস্থানীয় ইসরায়েলি কর্তাব্যক্তিরা গাজা থেকে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করার পক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের কথা বিবেচনা করে ইসরায়েলের এমন উচ্চাভিলাষী ও জোরপূর্বক স্থানান্তরের পরিকল্পনা শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছিল। মিত্র দেশের এমন একতরফা ও বিতর্কিত নীতিতে মার্কিন প্রশাসন যে সায় দিচ্ছে না, সাম্প্রতিক এই অস্বীকৃতির মাধ্যমে তা জোরালোভাবে প্রতীয়মান হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজেদের ভূমি থেকে জোরপূর্বক হটিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের তীব্র বিরোধী তারা। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন যে গাজার দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ কোনো সমাধান হতে পারে না। বরং ফিলিস্তিনিদের নিজেদের এলাকায় বসবাস করার অধিকার এবং তাদের মানবিক সুরক্ষার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রকাশ্য এই মতপার্থক্যের মধ্য দিয়ে বাইডেন প্রশাসনের অবস্থান কিছুটা হলেও স্পষ্ট হলো, যদিও বিশ্লেষকদের মতে এটি দুই দেশের সুদীর্ঘ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। গাজা সংঘাতের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে গেলেও, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের মতো চরম পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তারা যে দূরত্ব বজায় রাখতে চায়, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তবে ভবিষ্যতে এই মতপার্থক্য দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে।

জনপ্রিয়

মাদারীপুরে শতাধিক বাড়িতে হামলা-লুটপাট

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বের করার ইসরায়েলি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত ০৬:১৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার যে প্রস্তাব ইসরায়েলি কর্মকর্তারা উত্থাপন করেছিলেন, তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে এই অবস্থান স্পষ্টতই এক বিরল মতবিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গাজার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুই মিত্র দেশের দৃষ্টিভঙ্গির এই ফারাক আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, শীর্ষস্থানীয় ইসরায়েলি কর্তাব্যক্তিরা গাজা থেকে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করার পক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের কথা বিবেচনা করে ইসরায়েলের এমন উচ্চাভিলাষী ও জোরপূর্বক স্থানান্তরের পরিকল্পনা শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছিল। মিত্র দেশের এমন একতরফা ও বিতর্কিত নীতিতে মার্কিন প্রশাসন যে সায় দিচ্ছে না, সাম্প্রতিক এই অস্বীকৃতির মাধ্যমে তা জোরালোভাবে প্রতীয়মান হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজেদের ভূমি থেকে জোরপূর্বক হটিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের তীব্র বিরোধী তারা। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন যে গাজার দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ কোনো সমাধান হতে পারে না। বরং ফিলিস্তিনিদের নিজেদের এলাকায় বসবাস করার অধিকার এবং তাদের মানবিক সুরক্ষার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রকাশ্য এই মতপার্থক্যের মধ্য দিয়ে বাইডেন প্রশাসনের অবস্থান কিছুটা হলেও স্পষ্ট হলো, যদিও বিশ্লেষকদের মতে এটি দুই দেশের সুদীর্ঘ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। গাজা সংঘাতের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে গেলেও, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের মতো চরম পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তারা যে দূরত্ব বজায় রাখতে চায়, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তবে ভবিষ্যতে এই মতপার্থক্য দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে।