প্রবাস ডেস্ক: মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চাউকিট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ অর্থপাচার বা হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। কুয়ালালামপুরের ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের টার্গেট করে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। দীর্ঘ এক মাসের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার আড়াল নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এই চক্রটি অবৈধ লেনদেন চালিয়ে আসছিল।
অভিযানে ২৪ থেকে ৪২ বছর বয়সি মোট আটজন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়েছে বলে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রটি ব্যবসার আড়ালে বিদেশি এজেন্টদের নিবন্ধিত ই-ওয়ালেট এবং স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। যেসব গ্রাহকের ডিজিটাল বা ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার ছিল না, তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে তা বিদেশে স্থানান্তর করা হতো। চক্রটির এজেন্টরা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যদিবসের সময়সীমা অনুসরণ করে তাদের লেনদেন পরিচালনা করত।
তদন্তে গত বছরের জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই চক্রের ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্টগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড পাওয়া গেছে। অবৈধ এই কার্যক্রম থেকে অর্জিত নগদ অর্থের পাশাপাশি বেশ কিছু বাংলাদেশি পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং সিসিটিভি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাণিজ্যিক নথিপত্র, কোম্পানির লাইসেন্স, সিল এবং চাবিও উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় থাকার অনুমোদিত মেয়াদ শেষের অভিযোগ রয়েছে এবং বাকিরা ইমিগ্রেশন পাসের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন।
এই হুন্ডি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হচ্ছে। মূল অভিযুক্তদের পাশাপাশি এই তদন্তে সহায়তার জন্য আরও কয়েকজন বাংলাদেশি এবং মালয়েশীয় নাগরিককে ইমিগ্রেশন অফিসে উপস্থিত হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এ ধরনের অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড রোধে মালয়েশিয়া সরকারের নজরদারি ও কড়া অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ উপায়ে অর্থ পাঠানোর এই চক্রটি উদ্ঘাটনের মাধ্যমে প্রবাসীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।




































