ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা সামলাতে এখনই নামতে হবে

চলতি মাসের শেষ ভাগ কিংবা আগামী মাসের প্রথম দিকে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিগত তিন-চার বছরের তথ্য-উপাত্ত এবং বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানান, বৃষ্টিপাতের ধরন ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সাধারণত এই সময়টিতেই ডেঙ্গু সংক্রমণ তার সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়। এই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এখন থেকেই কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশজুড়ে একটি ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস এবং গার্লস গাইডের মতো স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এই কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের বহুতল ভবনগুলোতে মশার উৎসস্থল ধ্বংসে অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও নগরবাসীকে ব্যক্তিগতভাবে আরও বেশি সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার চেয়ে প্রতিটি নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি বলে তিনি মনে করেন।

হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে ড. মুহিত জানান যে, কেবল চিকিৎসা নয় বরং রোগ প্রতিরোধের ওপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সম্ভাব্য রোগীর চাপ সামলাতে সকল সিভিল সার্জনকে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা, স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় টেস্ট কিটের মজুত নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত প্রায় তিনশ চিকিৎসককে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্টের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে রোগীর মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

মশা নিধন এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতাল চত্বরে যাতে ডেঙ্গু ছড়াতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় মশারি বিতরণসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে তিনি এই মহামারী প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা এবং জোরালো প্রচারণার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয়

সাপ মেরে ব্যাগে ভরে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিলেন স্বামী

অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা সামলাতে এখনই নামতে হবে

প্রকাশিত ০৫:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি মাসের শেষ ভাগ কিংবা আগামী মাসের প্রথম দিকে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিগত তিন-চার বছরের তথ্য-উপাত্ত এবং বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানান, বৃষ্টিপাতের ধরন ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সাধারণত এই সময়টিতেই ডেঙ্গু সংক্রমণ তার সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়। এই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এখন থেকেই কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশজুড়ে একটি ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস এবং গার্লস গাইডের মতো স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এই কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের বহুতল ভবনগুলোতে মশার উৎসস্থল ধ্বংসে অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও নগরবাসীকে ব্যক্তিগতভাবে আরও বেশি সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার চেয়ে প্রতিটি নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি বলে তিনি মনে করেন।

হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে ড. মুহিত জানান যে, কেবল চিকিৎসা নয় বরং রোগ প্রতিরোধের ওপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সম্ভাব্য রোগীর চাপ সামলাতে সকল সিভিল সার্জনকে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা, স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় টেস্ট কিটের মজুত নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত প্রায় তিনশ চিকিৎসককে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্টের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে রোগীর মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

মশা নিধন এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতাল চত্বরে যাতে ডেঙ্গু ছড়াতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় মশারি বিতরণসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে তিনি এই মহামারী প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা এবং জোরালো প্রচারণার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।