ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কে এই সারাহ খলিফা?

ক্যামেরার সামনে যিনি নিয়মিত অপরাধ ও নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন, সেই জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকাই বর্তমানে এক বিশাল মাদক পাচার চক্রের হোতা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। মিশরের অত্যন্ত পরিচিত মুখ সারাহ খলিফা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র গড়ে তোলার প্রমাণ পাওয়ায় দেশটির আদালত এই কঠোর শাস্তি প্রদান করেছেন। অপরাধজগতের অন্ধকার ভুবনে জড়িয়ে পড়ার কারণে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিনোদন জগতের চাকচিক্য ও খ্যাতির আড়ালে এক কুখ্যাত মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার নেপথ্যে ছিলেন এই ৩৯ বছর বয়সী নারী তারকা।

মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরামের তথ্য অনুযায়ী, সারাহ খলিফা শুধু একজন উপস্থাপিকাই ছিলেন না, বরং তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক এবং একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানেরও মালিক ছিলেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই চক্রটি বিদেশ থেকে অবৈধ কাঁচামাল আমদানি করে কৃত্রিম উপায়ে অত্যন্ত ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য তৈরি ও বাজারজাত করত। প্রসিকিউটরদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে নিজেদের কাজ ভাগ করে নিয়েছিল। কেউ কাঁচামাল আমদানির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল, কেউ গোপন ল্যাবরেটরিতে মাদক উৎপাদনে ব্যস্ত ছিল এবং বাকিরা তা বিক্রির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও কাঁচামাল জব্দ করে। অভিযানে দুটি সুসজ্জিত অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলো মূলত গোপন মাদক তৈরির ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া মামলার অপর ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ৭ জনকে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন। মিশরের আইন ও ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী গ্র্যান্ড মুফতির চূড়ান্ত মতামত নেওয়ার পরই এই মৃত্যুদণ্ডের রায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনজীবীরা এই চরম দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিলেও সারাহ খলিফা শুরু থেকেই নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে আসছেন। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে ছবি তোলার আগে তিনি জীবনে কখনো মাদক দেখেননি এবং কখনো সিগারেটও স্পর্শ করেননি। তবে প্রসিকিউটররা আদালতে ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং আসামিদের মোবাইল ফোনের বার্তা, ছবি ও ভিডিও ফুটেজের মতো ডিজিটাল প্রমাণ উপস্থাপন করে তাদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেন। কায়রো থেকে গ্রেফতার হওয়া এই উপস্থাপিকার আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

জনপ্রিয়

ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডসে সর্বোচ্চ পাঁচ পুরস্কার রবির

কে এই সারাহ খলিফা?

প্রকাশিত ০৭:০৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্যামেরার সামনে যিনি নিয়মিত অপরাধ ও নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন, সেই জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকাই বর্তমানে এক বিশাল মাদক পাচার চক্রের হোতা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। মিশরের অত্যন্ত পরিচিত মুখ সারাহ খলিফা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র গড়ে তোলার প্রমাণ পাওয়ায় দেশটির আদালত এই কঠোর শাস্তি প্রদান করেছেন। অপরাধজগতের অন্ধকার ভুবনে জড়িয়ে পড়ার কারণে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিনোদন জগতের চাকচিক্য ও খ্যাতির আড়ালে এক কুখ্যাত মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার নেপথ্যে ছিলেন এই ৩৯ বছর বয়সী নারী তারকা।

মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরামের তথ্য অনুযায়ী, সারাহ খলিফা শুধু একজন উপস্থাপিকাই ছিলেন না, বরং তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক এবং একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানেরও মালিক ছিলেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই চক্রটি বিদেশ থেকে অবৈধ কাঁচামাল আমদানি করে কৃত্রিম উপায়ে অত্যন্ত ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য তৈরি ও বাজারজাত করত। প্রসিকিউটরদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে নিজেদের কাজ ভাগ করে নিয়েছিল। কেউ কাঁচামাল আমদানির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল, কেউ গোপন ল্যাবরেটরিতে মাদক উৎপাদনে ব্যস্ত ছিল এবং বাকিরা তা বিক্রির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও কাঁচামাল জব্দ করে। অভিযানে দুটি সুসজ্জিত অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলো মূলত গোপন মাদক তৈরির ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া মামলার অপর ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ৭ জনকে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন। মিশরের আইন ও ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী গ্র্যান্ড মুফতির চূড়ান্ত মতামত নেওয়ার পরই এই মৃত্যুদণ্ডের রায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনজীবীরা এই চরম দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিলেও সারাহ খলিফা শুরু থেকেই নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে আসছেন। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে ছবি তোলার আগে তিনি জীবনে কখনো মাদক দেখেননি এবং কখনো সিগারেটও স্পর্শ করেননি। তবে প্রসিকিউটররা আদালতে ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং আসামিদের মোবাইল ফোনের বার্তা, ছবি ও ভিডিও ফুটেজের মতো ডিজিটাল প্রমাণ উপস্থাপন করে তাদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেন। কায়রো থেকে গ্রেফতার হওয়া এই উপস্থাপিকার আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।