ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এফডিসিতে যে কারণে রেগে যান সামিরা, পরদিনই সালমান শাহর মৃত্যু

বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার জীবনের শেষ দিনগুলোর ঘটনা নিয়ে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এফডিসিতে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিংয়ের দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের তথ্য ও স্মৃতিচারণ সামনে এসেছে। ওই দিন এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা এবং তার বহুচর্চিত নায়িকা শাবনূর। কাজের ফাঁকে তাদের দুজনকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খুনসুটির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে সেসময়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

ডাবিং চলাকালীন সালমান শাহ তার বাবাকে ফোন করে স্ত্রী সামিরা হককে এফডিসিতে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। কিছু সময় পর সালমানের বাবা সামিরাকে নিয়ে নির্দিষ্ট সাউন্ড কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছান। সেখানে ডাবিং রুমে সালমান ও শাবনূরকে একসঙ্গে অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থানে দেখে সামিরা মানসিকভাবে বেশ বিচলিত ও ক্ষুব্ধ হন। পরবর্তী সময়ে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সামিরা নিজেও ওই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, তাদের ঘনিষ্ঠ আচরণ তার কাছে একেবারেই ভালো লাগেনি এবং রাগ করেই তিনি সেখান থেকে চলে যান।

সামিরার ক্ষোভের মুখে এফডিসি থেকে ফেরার সময় গাড়িতে তার সঙ্গে চিত্রনায়ক ও পরিচালক বাদল খন্দকার এবং সালমান শাহ নিজেও ওঠেন। তবে গাড়ির ভেতরে সামিরার সঙ্গে সালমানের কোনো কথা হয়নি এবং পরিচালক বাদল খন্দকারই মূলত পরিবেশ কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এফডিসির প্রধান ফটকের কাছাকাছি এসে সালমান ও বাদল খন্দকার গাড়ি থেকে নেমে পড়েন এবং কিছু সময় কাটানোর পর সালমান পুনরায় ডাবিং রুমে ফিরে যান। যদিও ওই দিন আর ডাবিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তীতে রাতে পরিচালক বাদল খন্দকারই তাকে নিউ ইস্কাটনের নিজ বাসায় পৌঁছে দেন।

এই ঘটনার ঠিক পরদিন অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে মাত্র ২৫ বছর বয়সে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই আকস্মিক মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সামিরাকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক ও অভিযোগের ঝড় উঠলেও তিনি বরাবরই সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে সালমানের পরিবার শুরু থেকেই একে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করে আসছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। আজও এই চিত্রনায়কের প্রয়াণ দিবস এলে ভক্তদের মনে সেই পুরোনো প্রশ্ন ও রহস্যের জাল নতুন করে দানা বাঁধে।

জনপ্রিয়

৯ মাসের ০% ইএমআইতে ৩,৯০০ টাকার কিস্তিতে ভিভো ভি৮০ লাইট

এফডিসিতে যে কারণে রেগে যান সামিরা, পরদিনই সালমান শাহর মৃত্যু

প্রকাশিত ০৭:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার জীবনের শেষ দিনগুলোর ঘটনা নিয়ে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এফডিসিতে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিংয়ের দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের তথ্য ও স্মৃতিচারণ সামনে এসেছে। ওই দিন এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা এবং তার বহুচর্চিত নায়িকা শাবনূর। কাজের ফাঁকে তাদের দুজনকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খুনসুটির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে সেসময়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

ডাবিং চলাকালীন সালমান শাহ তার বাবাকে ফোন করে স্ত্রী সামিরা হককে এফডিসিতে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। কিছু সময় পর সালমানের বাবা সামিরাকে নিয়ে নির্দিষ্ট সাউন্ড কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছান। সেখানে ডাবিং রুমে সালমান ও শাবনূরকে একসঙ্গে অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থানে দেখে সামিরা মানসিকভাবে বেশ বিচলিত ও ক্ষুব্ধ হন। পরবর্তী সময়ে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সামিরা নিজেও ওই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, তাদের ঘনিষ্ঠ আচরণ তার কাছে একেবারেই ভালো লাগেনি এবং রাগ করেই তিনি সেখান থেকে চলে যান।

সামিরার ক্ষোভের মুখে এফডিসি থেকে ফেরার সময় গাড়িতে তার সঙ্গে চিত্রনায়ক ও পরিচালক বাদল খন্দকার এবং সালমান শাহ নিজেও ওঠেন। তবে গাড়ির ভেতরে সামিরার সঙ্গে সালমানের কোনো কথা হয়নি এবং পরিচালক বাদল খন্দকারই মূলত পরিবেশ কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এফডিসির প্রধান ফটকের কাছাকাছি এসে সালমান ও বাদল খন্দকার গাড়ি থেকে নেমে পড়েন এবং কিছু সময় কাটানোর পর সালমান পুনরায় ডাবিং রুমে ফিরে যান। যদিও ওই দিন আর ডাবিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তীতে রাতে পরিচালক বাদল খন্দকারই তাকে নিউ ইস্কাটনের নিজ বাসায় পৌঁছে দেন।

এই ঘটনার ঠিক পরদিন অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে মাত্র ২৫ বছর বয়সে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই আকস্মিক মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সামিরাকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক ও অভিযোগের ঝড় উঠলেও তিনি বরাবরই সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে সালমানের পরিবার শুরু থেকেই একে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করে আসছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। আজও এই চিত্রনায়কের প্রয়াণ দিবস এলে ভক্তদের মনে সেই পুরোনো প্রশ্ন ও রহস্যের জাল নতুন করে দানা বাঁধে।