ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে স্লোগান, ‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’ Logo সিএএস কাপ প্রফেশনাল গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ করলেন সেনাপ্রধান Logo মানসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরির আহ্বান জানালেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ Logo ‘১০ বছর পিছিয়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট!’ Logo লাইব্রেরির পাশে নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থান চায় পাবিপ্রবি ছাত্রদল Logo সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রী-হুইপদের রাখা নিয়ে স্পিকারের উষ্মা Logo আবারও বাঁচালেন সেই বোলাররাই, স্বস্তির জয়ে সেমিতে বাংলাদেশ Logo হরমুজের প্রবেশমুখে আটক যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাবমেরিন ড্রোন’ Logo ডাকসুর স্বাস্থ্য ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৩ হাজার শিক্ষার্থী Logo সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে দ্বিতীয় দিন ৩২৭ কোটি টাকা তুললেন গ্রাহকরা

আবারও বাঁচালেন সেই বোলাররাই, স্বস্তির জয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার দিনেও দারুণ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল প্রতিপক্ষকে ৩৪ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নিয়েছিল, যেখানে জয়ী দল সরাসরি শেষ চারে জায়গা পাওয়ার সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নেমেছিল। শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ দলের ব্যাটাররা প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের সামনে সম্পূর্ণ খেই হারিয়ে ফেলেন এবং স্কোরবোর্ডে বড় কোনো সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হন। তবে দলের বোলাররা নিজেদের সেরাটা দিয়ে সেই ছোট পুঁজি রক্ষা করে দলকে স্বস্তির জয় উপহার দেন। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর একই মাঠে প্রতিযোগিতার প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই ওপেনার দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি সাজঘরে ফিরে যান, যার ফলে পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ২১ রান। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও জুয়ারিয়ারা ফেরদৌস মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও আরব আমিরাতের আঁটসাঁট বোলিংয়ের কারণে রান তোলার গতি ছিল অত্যন্ত মন্থর। দলীয় রান যখন আট, তখন এই জুটি বিচ্ছিন্ন হয় এবং এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগ্রেসরা। একে একে জ্যোতি, স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা আক্তার আউট হলে মাত্র ৫৫ রান তুলতেই দলের অর্ধেক ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। এমন শোচনীয় পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ শারমিন আক্তার সুপ্তা একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে দলের রান একশো পার করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত কুড়ি ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০ উইকেটে ১০৩ রান, যেখানে সুপ্তা দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রানের মহামূল্যবান ইনিংস খেলেন।

মাত্র ১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরব আমিরাতের ব্যাটাররা বাংলাদেশের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই প্রতিভাবান পেসার মারুফা আক্তার আরব আমিরাত অধিনায়ক ইশা ওঝাকে ফিরিয়ে দিয়ে দলের দুর্দান্ত সূচনার ভিত্তি গড়ে দেন। পাওয়ার প্লের পরবর্তী ওভারে মারুফা আবারও আঘাত হেনে সামাইরা ধারনিধারকাকে বিদায় করলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে স্বাগতিক দল। প্রথম দশ ওভারের মধ্যেই মারুফার কোটা পূরণ করিয়ে অধিনায়ক জ্যোতি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন, এবং এই পেসার তার চার ওভারে মাত্র নয় রান খরচ করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। পাওয়ার প্লে ও এর পরের সময়েও বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে নিয়মিত রান আউটের পাশাপাশি ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয়। দলীয় ২২ রানে রাবেয়া খাতুন প্রতিপক্ষের আরও একটি উইকেট তুলে নিলে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। মাঝের ওভারগুলোতে সুলتানা খাতুন ও নাহিদা আক্তাররাও প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখেন।

বোলারদের সম্মিলিত চমৎকার পারফরম্যান্সের সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাত নির্ধারিত ওভারের শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি এবং ৯ উইকেটে মাত্র ৬৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের পক্ষে রাবেয়া খাতুন অত্যন্ত সফল বোলিং করে মাত্র চৌদ্দ রান খরচ করে তিনটি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া অভিজ্ঞ স্পিনার নাহিদা আক্তারও দুটি উইকেট দখল করে দলের জয়ে বড় ধরনের অবদান রাখেন। হেনা ছাড়া আরব আমিরাতের ইনিংসে আর কোনো ব্যাটার দুই অংকের রান স্পর্শ করতে পারেননি, ফলে ম্যাচ থেকে তারা সহজেই ছিটকে যায়। এই জয়ে দলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাটারদের দুর্বলতা কাটিয়ে নকআউট পর্বে আরও ভালো খেলার প্রত্যয় তৈরি হয়েছে। শারমিন আক্তার সুপ্তার দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং বোলারদের অসাধারণ প্রদর্শনীই মূলত এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে।

জনপ্রিয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে স্লোগান, ‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’

আবারও বাঁচালেন সেই বোলাররাই, স্বস্তির জয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

প্রকাশিত ০২:১৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার দিনেও দারুণ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল প্রতিপক্ষকে ৩৪ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নিয়েছিল, যেখানে জয়ী দল সরাসরি শেষ চারে জায়গা পাওয়ার সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নেমেছিল। শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ দলের ব্যাটাররা প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের সামনে সম্পূর্ণ খেই হারিয়ে ফেলেন এবং স্কোরবোর্ডে বড় কোনো সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হন। তবে দলের বোলাররা নিজেদের সেরাটা দিয়ে সেই ছোট পুঁজি রক্ষা করে দলকে স্বস্তির জয় উপহার দেন। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর একই মাঠে প্রতিযোগিতার প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই ওপেনার দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি সাজঘরে ফিরে যান, যার ফলে পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ২১ রান। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও জুয়ারিয়ারা ফেরদৌস মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও আরব আমিরাতের আঁটসাঁট বোলিংয়ের কারণে রান তোলার গতি ছিল অত্যন্ত মন্থর। দলীয় রান যখন আট, তখন এই জুটি বিচ্ছিন্ন হয় এবং এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগ্রেসরা। একে একে জ্যোতি, স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা আক্তার আউট হলে মাত্র ৫৫ রান তুলতেই দলের অর্ধেক ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। এমন শোচনীয় পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ শারমিন আক্তার সুপ্তা একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে দলের রান একশো পার করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত কুড়ি ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০ উইকেটে ১০৩ রান, যেখানে সুপ্তা দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রানের মহামূল্যবান ইনিংস খেলেন।

মাত্র ১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরব আমিরাতের ব্যাটাররা বাংলাদেশের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই প্রতিভাবান পেসার মারুফা আক্তার আরব আমিরাত অধিনায়ক ইশা ওঝাকে ফিরিয়ে দিয়ে দলের দুর্দান্ত সূচনার ভিত্তি গড়ে দেন। পাওয়ার প্লের পরবর্তী ওভারে মারুফা আবারও আঘাত হেনে সামাইরা ধারনিধারকাকে বিদায় করলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে স্বাগতিক দল। প্রথম দশ ওভারের মধ্যেই মারুফার কোটা পূরণ করিয়ে অধিনায়ক জ্যোতি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন, এবং এই পেসার তার চার ওভারে মাত্র নয় রান খরচ করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। পাওয়ার প্লে ও এর পরের সময়েও বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে নিয়মিত রান আউটের পাশাপাশি ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয়। দলীয় ২২ রানে রাবেয়া খাতুন প্রতিপক্ষের আরও একটি উইকেট তুলে নিলে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। মাঝের ওভারগুলোতে সুলتানা খাতুন ও নাহিদা আক্তাররাও প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখেন।

বোলারদের সম্মিলিত চমৎকার পারফরম্যান্সের সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাত নির্ধারিত ওভারের শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি এবং ৯ উইকেটে মাত্র ৬৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের পক্ষে রাবেয়া খাতুন অত্যন্ত সফল বোলিং করে মাত্র চৌদ্দ রান খরচ করে তিনটি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া অভিজ্ঞ স্পিনার নাহিদা আক্তারও দুটি উইকেট দখল করে দলের জয়ে বড় ধরনের অবদান রাখেন। হেনা ছাড়া আরব আমিরাতের ইনিংসে আর কোনো ব্যাটার দুই অংকের রান স্পর্শ করতে পারেননি, ফলে ম্যাচ থেকে তারা সহজেই ছিটকে যায়। এই জয়ে দলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাটারদের দুর্বলতা কাটিয়ে নকআউট পর্বে আরও ভালো খেলার প্রত্যয় তৈরি হয়েছে। শারমিন আক্তার সুপ্তার দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং বোলারদের অসাধারণ প্রদর্শনীই মূলত এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে।