ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বেনজীরকে ফেরাতে ৪ দিনের মধ্যেই অনুরোধ করা হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির Logo প্রবীণদের সম্পত্তি দানের নতুন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী Logo জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে স্লোগান, ‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’ Logo সিএএস কাপ প্রফেশনাল গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ করলেন সেনাপ্রধান Logo মানসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরির আহ্বান জানালেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ Logo ‘১০ বছর পিছিয়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট!’ Logo লাইব্রেরির পাশে নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থান চায় পাবিপ্রবি ছাত্রদল Logo সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রী-হুইপদের রাখা নিয়ে স্পিকারের উষ্মা Logo আবারও বাঁচালেন সেই বোলাররাই, স্বস্তির জয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে স্লোগান, ‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’

সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করেন তারা। মূলত সরকারি চাকরির নিয়োগ বিধিমালায় যে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে গিয়েই এই আন্দোলন গড়ে তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত চাকরিপ্রার্থীদের মেধা মূল্যায়নের পথকে সংকুচিত করবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে পারে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। আন্দোলন চলাকালীন শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে নানা ধরনের প্রতিবাদী স্লোগান শোনা যায়। ‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’, ‘আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘তদবিরের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘মেধাবীদের কান্না আর না আর না’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস এলাকা।

শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ, চাকরির পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে যদি ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তবে প্রশাসনে তদবির, দুর্নীতি ও পক্ষপাতের সুযোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। তারা মনে করেন, লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত মেধার সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব হলেও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বেশি থাকলে সেখানে স্বজনপ্রীতির ঝুঁকি থেকে যায়। তাই যেকোনো মূল্যে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিও পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে জানানো হয়েছে যে, দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নিয়োগ বিধিমালায় এই পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি হলো, নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক নম্বরের মধ্যে একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো পরিবর্তন তারা মেনে নেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে এই প্রস্তাবিত বিধিমালা সংশোধন বা পুনর্বিবেচনা করে চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

বেনজীরকে ফেরাতে ৪ দিনের মধ্যেই অনুরোধ করা হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে স্লোগান, ‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’

প্রকাশিত ০৩:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করেন তারা। মূলত সরকারি চাকরির নিয়োগ বিধিমালায় যে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে গিয়েই এই আন্দোলন গড়ে তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত চাকরিপ্রার্থীদের মেধা মূল্যায়নের পথকে সংকুচিত করবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে পারে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। আন্দোলন চলাকালীন শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে নানা ধরনের প্রতিবাদী স্লোগান শোনা যায়। ‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’, ‘আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘তদবিরের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘মেধাবীদের কান্না আর না আর না’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস এলাকা।

শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ, চাকরির পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে যদি ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তবে প্রশাসনে তদবির, দুর্নীতি ও পক্ষপাতের সুযোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। তারা মনে করেন, লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত মেধার সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব হলেও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বেশি থাকলে সেখানে স্বজনপ্রীতির ঝুঁকি থেকে যায়। তাই যেকোনো মূল্যে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিও পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে জানানো হয়েছে যে, দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নিয়োগ বিধিমালায় এই পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি হলো, নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক নম্বরের মধ্যে একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো পরিবর্তন তারা মেনে নেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে এই প্রস্তাবিত বিধিমালা সংশোধন বা পুনর্বিবেচনা করে চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।