ঢাকা ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে স্লোগান, ‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’ Logo সিএএস কাপ প্রফেশনাল গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ করলেন সেনাপ্রধান Logo মানসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরির আহ্বান জানালেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ Logo ‘১০ বছর পিছিয়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট!’ Logo লাইব্রেরির পাশে নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থান চায় পাবিপ্রবি ছাত্রদল Logo সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রী-হুইপদের রাখা নিয়ে স্পিকারের উষ্মা Logo আবারও বাঁচালেন সেই বোলাররাই, স্বস্তির জয়ে সেমিতে বাংলাদেশ Logo হরমুজের প্রবেশমুখে আটক যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাবমেরিন ড্রোন’ Logo ডাকসুর স্বাস্থ্য ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৩ হাজার শিক্ষার্থী Logo সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে দ্বিতীয় দিন ৩২৭ কোটি টাকা তুললেন গ্রাহকরা

মানসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরির আহ্বান জানালেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ

দেশের সাধারণ মানুষকে অধিকতর উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। ফিজিওথেরাপিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (প্যাব) কর্তৃক ‘বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশের সার্বিক চিকিৎসা খাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবার মূল দর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন যে, চিকিৎসাসেবা কখনোই কেবল চিকিৎসককেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়। একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাব্যবস্থায় নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্ট এবং রোগীর পরিবারের সদস্যরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা সবাই একে অপরের পরিপূরক শক্তি হিসেবে কাজ করেন উল্লেখ করে তিনি জানান যে, কোনো একটিমাত্র পেশা বা বিভাগ দিয়ে সব রোগ পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। তাই রোগীদের প্রকৃত ও কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত এবং আন্তরিক প্রয়াস থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধান অতিথি। তিনি জানান যে, সরকারি নীতিগত সহায়তা এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক মাধ্যমগুলোকেও এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকির এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে বক্তারা জানান যে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ অন্যতম। প্রতি বছর এই রোগে বিশ্বব্যাপী প্রায় দুই কোটি পাঁচ লাখ মানুষ মারা যায়, যা মোট বৈশ্বিক মৃত্যুর ত্রিশ শতাংশেরও বেশি। বিশেষ করে এর প্রায় পঁচাত্তর ভাগ মৃত্যুই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও জানান যে, সাধারণ মানুষের জীবদ্দশায় প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন, যা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে আরও বেশি আশঙ্কাজনক। তবে পর্যাপ্ত জনসচেতনতা তৈরি এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা সম্ভব হলে প্রায় সব ধরনের স্ট্রোকই প্রতিরোধ করা যায়। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত করতে এবং ফিজিওথেরাপিস্টদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি বিভাগ চালুর জোরালো দাবি জানানো হয়। সেইসঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও বলা হয়।

প্যাব-এর সভাপতি কামরুজ্জামান কল্লোলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপির পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সহ-সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির লাবু, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খান এবং সোসাইটি অব নিউরোলজিস্ট বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. নাজমুল হুদা বিপ্লব। বক্তারা সবাই দেশের স্বাস্থ্যখাতে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জনপ্রিয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে স্লোগান, ‘ভাইভা-কোটার ঠাঁই নাই’

মানসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরির আহ্বান জানালেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ

প্রকাশিত ০৩:১৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সাধারণ মানুষকে অধিকতর উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। ফিজিওথেরাপিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (প্যাব) কর্তৃক ‘বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশের সার্বিক চিকিৎসা খাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবার মূল দর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন যে, চিকিৎসাসেবা কখনোই কেবল চিকিৎসককেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়। একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাব্যবস্থায় নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্ট এবং রোগীর পরিবারের সদস্যরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা সবাই একে অপরের পরিপূরক শক্তি হিসেবে কাজ করেন উল্লেখ করে তিনি জানান যে, কোনো একটিমাত্র পেশা বা বিভাগ দিয়ে সব রোগ পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। তাই রোগীদের প্রকৃত ও কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত এবং আন্তরিক প্রয়াস থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধান অতিথি। তিনি জানান যে, সরকারি নীতিগত সহায়তা এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক মাধ্যমগুলোকেও এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকির এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে বক্তারা জানান যে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ অন্যতম। প্রতি বছর এই রোগে বিশ্বব্যাপী প্রায় দুই কোটি পাঁচ লাখ মানুষ মারা যায়, যা মোট বৈশ্বিক মৃত্যুর ত্রিশ শতাংশেরও বেশি। বিশেষ করে এর প্রায় পঁচাত্তর ভাগ মৃত্যুই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও জানান যে, সাধারণ মানুষের জীবদ্দশায় প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন, যা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে আরও বেশি আশঙ্কাজনক। তবে পর্যাপ্ত জনসচেতনতা তৈরি এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা সম্ভব হলে প্রায় সব ধরনের স্ট্রোকই প্রতিরোধ করা যায়। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত করতে এবং ফিজিওথেরাপিস্টদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি বিভাগ চালুর জোরালো দাবি জানানো হয়। সেইসঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও বলা হয়।

প্যাব-এর সভাপতি কামরুজ্জামান কল্লোলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপির পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সহ-সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির লাবু, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খান এবং সোসাইটি অব নিউরোলজিস্ট বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. নাজমুল হুদা বিপ্লব। বক্তারা সবাই দেশের স্বাস্থ্যখাতে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।