ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

‘১০ বছর পিছিয়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট!’

পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে চলা ধারাবাহিক পরিবর্তন ও অস্থিরতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক তারকা স্পিনার সাঈদ আজমল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথে হঠাৎ করেই দল থেকে সাতজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া এবং কোচিং প্যানেলে বড় ধরনের রদবদলের ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এমন অপরিকল্পিত ও হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে দেশের পুরো ক্রিকেট কাঠামো এক দশক পিছিয়ে পড়েছে। দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি কোনো রূপরেখা ছাড়াই পিসিবি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাঈদ আজমল জানান যে, বোর্ডের এমন ঘনঘন পরিবর্তনে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ছে। পারফর্ম করার পরও ক্রিকেটারদের দল থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং বোর্ডের এই আচরণে খেলোয়াড়েরা চরমভাবে হতাশ ও অপমানিত বোধ করছেন। মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আগা ও ইমাম-উল-হকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের মাঝ সিরিজে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মনে করেন তিনি। তার স্পষ্ট কথা হলো, একজন খেলোয়াড়কে নিজেদের মেলে ধরার বা থিতু হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ না দিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়।

সাবেক এই স্পিনার আরও অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কেবল ব্যর্থতার দায় মেটানো নয়, বরং বর্তমান দলটিকে পুরোপুরি ভেঙে নতুন করে সাজানোর এক গোপন পরিকল্পনা চলছে। পাকিস্তান দলের হাই-পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ এবং কোচ মাইক হেসন মিলে সব ধরনের ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে দাবি করেন আজমল। তার মতে, এই দুই কর্মকর্তার একক নিয়ন্ত্রণ ও অহংবোধের কারণেই আজ পাকিস্তান ক্রিকেটে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং দলের ভেতরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে শোচনীয়ভাবে হেরে ইতিমধ্যে পিছিয়ে পড়েছে পাকিস্তান দল। প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর দলের এমন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করে পিসিবি। তবে সাঈদ আজমলের মতে, সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এভাবে দল পরিবর্তন করে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো বা ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয়। পাকিস্তান ক্রিকেটের এই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে পিসিবিকে আরও দায়িত্বশীল ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জনপ্রিয়

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার

‘১০ বছর পিছিয়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট!’

প্রকাশিত ০৩:০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে চলা ধারাবাহিক পরিবর্তন ও অস্থিরতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক তারকা স্পিনার সাঈদ আজমল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথে হঠাৎ করেই দল থেকে সাতজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া এবং কোচিং প্যানেলে বড় ধরনের রদবদলের ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এমন অপরিকল্পিত ও হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে দেশের পুরো ক্রিকেট কাঠামো এক দশক পিছিয়ে পড়েছে। দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি কোনো রূপরেখা ছাড়াই পিসিবি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাঈদ আজমল জানান যে, বোর্ডের এমন ঘনঘন পরিবর্তনে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ছে। পারফর্ম করার পরও ক্রিকেটারদের দল থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং বোর্ডের এই আচরণে খেলোয়াড়েরা চরমভাবে হতাশ ও অপমানিত বোধ করছেন। মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আগা ও ইমাম-উল-হকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের মাঝ সিরিজে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মনে করেন তিনি। তার স্পষ্ট কথা হলো, একজন খেলোয়াড়কে নিজেদের মেলে ধরার বা থিতু হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ না দিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়।

সাবেক এই স্পিনার আরও অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কেবল ব্যর্থতার দায় মেটানো নয়, বরং বর্তমান দলটিকে পুরোপুরি ভেঙে নতুন করে সাজানোর এক গোপন পরিকল্পনা চলছে। পাকিস্তান দলের হাই-পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ এবং কোচ মাইক হেসন মিলে সব ধরনের ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে দাবি করেন আজমল। তার মতে, এই দুই কর্মকর্তার একক নিয়ন্ত্রণ ও অহংবোধের কারণেই আজ পাকিস্তান ক্রিকেটে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং দলের ভেতরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে শোচনীয়ভাবে হেরে ইতিমধ্যে পিছিয়ে পড়েছে পাকিস্তান দল। প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর দলের এমন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করে পিসিবি। তবে সাঈদ আজমলের মতে, সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এভাবে দল পরিবর্তন করে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো বা ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয়। পাকিস্তান ক্রিকেটের এই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে পিসিবিকে আরও দায়িত্বশীল ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।