দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণের প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। মাস্টাররোলে কর্মরত সহকারী কর্মচারী আনোয়ার হোসেন এই অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে রহস্যজনকভাবে আত্মগোপনে চলে গেছেন। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন বিভাগের ৯১ জন শিক্ষার্থী, যাদের ভবিষ্যতে পরীক্ষার অংশ নেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কলেজ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে কলেজে কর্মরত থাকলেও এমন অনৈতিক কাজের কারণে পুরো শিক্ষাঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, আসন্ন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের উদ্দেশ্যে ইংরেজি বিভাগের ৯১ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি চার হাজার ৯৩৯ টাকা করে মোট চার লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৯ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সংগৃহীত এই অর্থের মধ্যে কলেজের পাওনা এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৯ টাকা বাদে বাকি দুই লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা ছিল আনোয়ার হোসেনের। কিন্তু তিনি সেই টাকা ব্যাংকের নির্দিষ্ট হিসাবে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন এবং পরে কলেজ হিসাবের খাতায় কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি গত আগস্ট মাসের প্রথম দিক থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. শামীম আকতার সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, শুধু টাকা আত্মসাৎই নয়, বরং ইংরেজি বিভাগের বিভিন্ন গোপনীয় নথিপত্র, আবেদন ফরম এবং গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার খাতা ওই কর্মচারীর জিম্মায় থাকায় সেগুলো অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খোয়া যাওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা উদ্ধারসহ ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আহসান হাবীব জানান যে, অভিযুক্তের আত্মগোপনের পর তার এক আত্মীয় টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কলেজ প্রশাসন বাধ্য হয়ে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।




































