ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

থানচির ছাং ওডং পাড়ায় পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বার্ষিক শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে বান্দরবানের থানচি উপজেলার ছাওদাং পাড়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) প্রেসক্লাবের সদস্যরা।

‎শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পর্যটন স্পটের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে স্থানীয় গ্রামপ্রধানের ছেলে ওমং শিং মারমা উপস্থিত ছিলেন।

‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাহিদ সোহেল, বর্তমান সভাপতি এমরান হোসেন তানিম, সাধারণ সম্পাদক আলফি সানি, কোষাধ্যক্ষ আহাসান হাবিব আতিক, প্রচার সম্পাদক বি এম মিকাইল হোসেনসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী ও শিক্ষানবিশ সদস্যরা।

‎স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভ্রমণ গাইডদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। আশপাশে ময়লা-আবর্জনা জমলে তা পরিষ্কার করেন এবং প্রয়োজনে পুড়িয়ে ফেলেন। পাশাপাশি পর্যটকদেরও ময়লা না ফেলার বিষয়ে সচেতন করেন।

‎ছাওদাং পাড়ার গ্রামপ্রধানের ছেলে ওমং শিং মারমা বলেন, ‘আমাদের গ্রামের পর্যটন স্পটগুলোতে, বিশেষ করে ভিউ পয়েন্টে, পর্যটকরা বেশি ময়লা ফেলেন। দোকানপাট ও বসতবাড়ির আশপাশের ময়লা মানুষজন নিজেদের মতো করে পরিষ্কার করেন। কিন্তু ভিউ পয়েন্টে ময়লা পরিষ্কার করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ময়লা জমে থাকলেও তা পরিষ্কার করার কেউ থাকে না।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গ্রামে প্রায় ছয়টি পরিবার রয়েছে। গ্রামের মানুষের সংখ্যা ২০ থেকে ৫০ জনের মতো। কিন্তু পর্যটকের সংখ্যা যখন ১০০ থেকে ২০০ জন হয়, তখন আমাদের পক্ষে সব ময়লা পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। যারা আমাদের বাড়িতে থাকেন, আমরা তাঁদের ময়লা না ফেলার বিষয়ে সচেতন করি। তবে সবাই তো একরকম নন। অনেক সময় নিজের চোখে দেখেও খারাপ ব্যবহারের ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারি না।
‎এখন থেকে আমরা পর্যটকদের ময়লা না ফেলার বিষয়ে আরও সচেতন করব। প্রয়োজনে গাড়িচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। আগেও আমার বাড়িতে থাকা একটি পর্যটক দলের কাছ থেকে ময়লা ফেলার কারণে জরিমানা নেওয়া হয়েছিল।
‎আপনারা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলবেন না। পর্যটন স্পটের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। এতে আমাদের গ্রামের মানুষ, পর্যটক এবং সবার জন্যই ভালো হবে।’

‎পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান হোসেন তানিম বলেন, আমরা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব থেকে বার্ষিক শিক্ষা সফরে থানচি উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে এসেছি। এর মধ্যে আমরা সাওদাং পাড়ায় গতকাল রাতে অবস্থান করেছি।
‎এখানে এসে আমাদের যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে, তা হলো—এই ভিউ পয়েন্টে মানুষ মেঘ উপভোগ করার জন্য সবচেয়ে বেশি দাঁড়ায়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, দর্শনার্থীরা আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে জায়গাটিকে অপরিষ্কার করছেন।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘তাই আমরা প্রেসক্লাবের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে এই ভিউ পয়েন্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো জায়গাটিকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে একটি সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া—কোনো দর্শনীয় স্থানে গিয়ে আমরা যেন ময়লা-আবর্জনা না ফেলি।’
‎আমরা চাই, সবাই নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে পরিবেশ পরিষ্কার রাখুক এবং এই সুন্দর জায়গাটির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করুক।

জনপ্রিয়

দুরন্ত ইয়ামালে দুর্দান্ত বার্সা, টানা ৫ ম্যাচে জয়

থানচির ছাং ওডং পাড়ায় পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

প্রকাশিত ১১:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বার্ষিক শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে বান্দরবানের থানচি উপজেলার ছাওদাং পাড়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) প্রেসক্লাবের সদস্যরা।

‎শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পর্যটন স্পটের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে স্থানীয় গ্রামপ্রধানের ছেলে ওমং শিং মারমা উপস্থিত ছিলেন।

‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাহিদ সোহেল, বর্তমান সভাপতি এমরান হোসেন তানিম, সাধারণ সম্পাদক আলফি সানি, কোষাধ্যক্ষ আহাসান হাবিব আতিক, প্রচার সম্পাদক বি এম মিকাইল হোসেনসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী ও শিক্ষানবিশ সদস্যরা।

‎স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভ্রমণ গাইডদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। আশপাশে ময়লা-আবর্জনা জমলে তা পরিষ্কার করেন এবং প্রয়োজনে পুড়িয়ে ফেলেন। পাশাপাশি পর্যটকদেরও ময়লা না ফেলার বিষয়ে সচেতন করেন।

‎ছাওদাং পাড়ার গ্রামপ্রধানের ছেলে ওমং শিং মারমা বলেন, ‘আমাদের গ্রামের পর্যটন স্পটগুলোতে, বিশেষ করে ভিউ পয়েন্টে, পর্যটকরা বেশি ময়লা ফেলেন। দোকানপাট ও বসতবাড়ির আশপাশের ময়লা মানুষজন নিজেদের মতো করে পরিষ্কার করেন। কিন্তু ভিউ পয়েন্টে ময়লা পরিষ্কার করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ময়লা জমে থাকলেও তা পরিষ্কার করার কেউ থাকে না।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গ্রামে প্রায় ছয়টি পরিবার রয়েছে। গ্রামের মানুষের সংখ্যা ২০ থেকে ৫০ জনের মতো। কিন্তু পর্যটকের সংখ্যা যখন ১০০ থেকে ২০০ জন হয়, তখন আমাদের পক্ষে সব ময়লা পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। যারা আমাদের বাড়িতে থাকেন, আমরা তাঁদের ময়লা না ফেলার বিষয়ে সচেতন করি। তবে সবাই তো একরকম নন। অনেক সময় নিজের চোখে দেখেও খারাপ ব্যবহারের ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারি না।
‎এখন থেকে আমরা পর্যটকদের ময়লা না ফেলার বিষয়ে আরও সচেতন করব। প্রয়োজনে গাড়িচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। আগেও আমার বাড়িতে থাকা একটি পর্যটক দলের কাছ থেকে ময়লা ফেলার কারণে জরিমানা নেওয়া হয়েছিল।
‎আপনারা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলবেন না। পর্যটন স্পটের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। এতে আমাদের গ্রামের মানুষ, পর্যটক এবং সবার জন্যই ভালো হবে।’

‎পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান হোসেন তানিম বলেন, আমরা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব থেকে বার্ষিক শিক্ষা সফরে থানচি উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে এসেছি। এর মধ্যে আমরা সাওদাং পাড়ায় গতকাল রাতে অবস্থান করেছি।
‎এখানে এসে আমাদের যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে, তা হলো—এই ভিউ পয়েন্টে মানুষ মেঘ উপভোগ করার জন্য সবচেয়ে বেশি দাঁড়ায়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, দর্শনার্থীরা আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে জায়গাটিকে অপরিষ্কার করছেন।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘তাই আমরা প্রেসক্লাবের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে এই ভিউ পয়েন্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো জায়গাটিকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে একটি সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া—কোনো দর্শনীয় স্থানে গিয়ে আমরা যেন ময়লা-আবর্জনা না ফেলি।’
‎আমরা চাই, সবাই নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে পরিবেশ পরিষ্কার রাখুক এবং এই সুন্দর জায়গাটির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করুক।