ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Commodities continue to be dearer

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের এই লাগামছাড়া দামে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ প্রধান পাইকারি বাজারগুলোতে চালু থাকা পণ্যের বাড়তি দাম সরাসরি খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম মণপ্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা খুচরা বাজারে কেজিতে আরও পাঁচ থেকে দশ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ পাইকারি ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশের মতে, বাজারে ডালের স্বাভাবিক চাহিদা ও পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কেবল কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বৃদ্ধির অজুহাত তুললেও, অন্য ব্যবসায়ীরা বলছেন যে বর্তমানে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলো পুরোনো কম দামে কেনা। ডালের মতো ভোজ্যতেল, আটা এবং চিনির দামও পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই কেজিতে অন্তত পাঁচ থেকে দশ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা ও বোতলজাত তেল, প্যাকেটজাত আটা এবং খোলা চিনির দাম নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আমিষের প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মের ডিমের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সীমিত আয়ের বেসরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ শ্রমিকরা তাদের অপরিবর্তিত আয়ের বিপরীতে হু হু করে বাড়তে থাকা পণ্যের দামের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে অনেকেই এখন সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য হচ্ছেন কিংবা ধারদেনার ওপর নির্ভর করছেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মগবাজারের মতো ব্যস্ত বাজারগুলোতে শীতকালীন শাকসবজির পূর্ণ সরবরাহ না আসা পর্যন্ত দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না ক্রেতা ও বিশেষজ্ঞরা। সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস ও মুদিপণ্যের চরম দামবৃদ্ধির ফলে সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গেছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের তরফ থেকে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পাশাপাশি কর সমন্বয়ের মতো নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে কীভাবে চলছে ট্রাইবুনালের কাজ?

Commodities continue to be dearer

প্রকাশিত ০৪:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের এই লাগামছাড়া দামে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ প্রধান পাইকারি বাজারগুলোতে চালু থাকা পণ্যের বাড়তি দাম সরাসরি খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম মণপ্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা খুচরা বাজারে কেজিতে আরও পাঁচ থেকে দশ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ পাইকারি ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশের মতে, বাজারে ডালের স্বাভাবিক চাহিদা ও পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কেবল কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বৃদ্ধির অজুহাত তুললেও, অন্য ব্যবসায়ীরা বলছেন যে বর্তমানে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলো পুরোনো কম দামে কেনা। ডালের মতো ভোজ্যতেল, আটা এবং চিনির দামও পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই কেজিতে অন্তত পাঁচ থেকে দশ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা ও বোতলজাত তেল, প্যাকেটজাত আটা এবং খোলা চিনির দাম নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আমিষের প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মের ডিমের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সীমিত আয়ের বেসরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ শ্রমিকরা তাদের অপরিবর্তিত আয়ের বিপরীতে হু হু করে বাড়তে থাকা পণ্যের দামের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে অনেকেই এখন সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য হচ্ছেন কিংবা ধারদেনার ওপর নির্ভর করছেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মগবাজারের মতো ব্যস্ত বাজারগুলোতে শীতকালীন শাকসবজির পূর্ণ সরবরাহ না আসা পর্যন্ত দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না ক্রেতা ও বিশেষজ্ঞরা। সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস ও মুদিপণ্যের চরম দামবৃদ্ধির ফলে সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গেছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের তরফ থেকে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পাশাপাশি কর সমন্বয়ের মতো নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।