ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

South Africa and Pakistan battle for survival

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে টিকে থাকার মিশনে ঐতিহাসিক লর্ডসে মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুটি দলই টুর্নামেন্টে নিজেদের সমীকরণ জটিল করে তুলেছে এবং বর্তমানে উভয় দলেরই ঝুলিতে রয়েছে সমান তিনটি করে পয়েন্ট। আসরের শুরু থেকেই এই দুই দলের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা ছিল না, এবং মাঠের পারফরম্যান্সও তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী খুব একটা ইতিবাচক হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা কেবল আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি জয় পেলেও বাকি সময় তাদের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। অন্যদিকে পাকিস্তান শক্তিশালী স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হেরে সমর্থক ও সাবেক ক্রিকেটারদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ম্যাচটি হয়ে দাঁড়িয়েছে টুর্নামেন্টে বেঁচে থাকার শেষ লড়াই, কারণ এই ম্যাচে হারলেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাবে। তবে পাকিস্তানের সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন, কারণ এই ম্যাচে পরাজিত হলেও তাদের সামনে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার ক্ষীণ সুযোগ খোলা থাকবে। পাকিস্তান যদি তাদের বাকি ম্যাচগুলোতে জয় তুলে নিয়ে মোট নয় পয়েন্ট অর্জন করতে পারে এবং ইংল্যান্ডসহ অন্যান্য দলগুলো আট পয়েন্টের বেশি না পায়, তবে তারা শেষ চারে জায়গা করে নিতে পারবে। তাছাড়া প্রোটিয়াদের চেয়ে পাকিস্তান একটি ম্যাচ কম খেলেছে, যা তাদের কিছুটা মানসিক স্বস্তি দিতে পারে।

পরিসংখ্যানের দিক থেকে বিশ্বকাপ মঞ্চে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা অতীতে চারবারের মুখোমুখিতে তিনবারই জয় তুলে নিয়েছিল। তবে সর্বশেষ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে অকল্যান্ডের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ঐতিহ্যের কেন্দ্র লর্ডসের বাইশ গজে এই দুই দল এর আগে কখনোই মুখোমুখি হয়নি, তবে ইংল্যান্ডের মাটিতে হওয়া আগের তিন ম্যাচের দুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পেলেও সর্বশেষ ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জয়লাভ করেছিল পাকিস্তান। উভয় দলের জন্যই এই লড়াই কেবল পয়েন্ট টেবিলের হিসাব নয়, বরং নিজেদের সম্মান পুনরুদ্ধার করারও একটি বড় সুযোগ।

ম্যাচটির সম্ভাব্য একাদশ ও দলীয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দুই শিবিরেই ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্স কিছুটা ভালো হওয়ায় তারা সম্ভবত নিজেদের জয়ী একাদশটিই অপরিবর্তিত রাখতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষে শোয়েব মালিকের সাম্প্রতিক ফর্ম ভালো না থাকায় তার পরিবর্তে হারিস সোহেলকে একাদশে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া হাসান আলীর অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সের কারণে তার জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন তরুণ পেসার মোহাম্মদ হাসনাইন। সব মিলিয়ে লর্ডসের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে দুই দলই নিজেদের সেরা একাদশ মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।

লর্ডসের ঐতিহাসিক উইকেটের চরিত্র ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ম্যাচটি ব্যাটারদের জন্য বেশ অনুকূল হতে পারে। গত কয়েক দিনে উইকেটের সবুজ আভা অনেকটাই কমে গেছে এবং ম্যাচের সময় এটি একটি সমতল উইকেটে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে দুই দলেরই দুর্বলতা থাকায় টাস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। খেলার দিন আবহাওয়া মনোরম থাকার কথা থাকলেও ইংল্যান্ডের আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে যেকোনো সময় বৃষ্টির বাগড়া পড়ার আশঙ্কাও সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জনপ্রিয়

South Africa and Pakistan battle for survival

প্রকাশিত ০৫:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে টিকে থাকার মিশনে ঐতিহাসিক লর্ডসে মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুটি দলই টুর্নামেন্টে নিজেদের সমীকরণ জটিল করে তুলেছে এবং বর্তমানে উভয় দলেরই ঝুলিতে রয়েছে সমান তিনটি করে পয়েন্ট। আসরের শুরু থেকেই এই দুই দলের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা ছিল না, এবং মাঠের পারফরম্যান্সও তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী খুব একটা ইতিবাচক হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা কেবল আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি জয় পেলেও বাকি সময় তাদের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। অন্যদিকে পাকিস্তান শক্তিশালী স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হেরে সমর্থক ও সাবেক ক্রিকেটারদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ম্যাচটি হয়ে দাঁড়িয়েছে টুর্নামেন্টে বেঁচে থাকার শেষ লড়াই, কারণ এই ম্যাচে হারলেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাবে। তবে পাকিস্তানের সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন, কারণ এই ম্যাচে পরাজিত হলেও তাদের সামনে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার ক্ষীণ সুযোগ খোলা থাকবে। পাকিস্তান যদি তাদের বাকি ম্যাচগুলোতে জয় তুলে নিয়ে মোট নয় পয়েন্ট অর্জন করতে পারে এবং ইংল্যান্ডসহ অন্যান্য দলগুলো আট পয়েন্টের বেশি না পায়, তবে তারা শেষ চারে জায়গা করে নিতে পারবে। তাছাড়া প্রোটিয়াদের চেয়ে পাকিস্তান একটি ম্যাচ কম খেলেছে, যা তাদের কিছুটা মানসিক স্বস্তি দিতে পারে।

পরিসংখ্যানের দিক থেকে বিশ্বকাপ মঞ্চে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা অতীতে চারবারের মুখোমুখিতে তিনবারই জয় তুলে নিয়েছিল। তবে সর্বশেষ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে অকল্যান্ডের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ঐতিহ্যের কেন্দ্র লর্ডসের বাইশ গজে এই দুই দল এর আগে কখনোই মুখোমুখি হয়নি, তবে ইংল্যান্ডের মাটিতে হওয়া আগের তিন ম্যাচের দুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পেলেও সর্বশেষ ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জয়লাভ করেছিল পাকিস্তান। উভয় দলের জন্যই এই লড়াই কেবল পয়েন্ট টেবিলের হিসাব নয়, বরং নিজেদের সম্মান পুনরুদ্ধার করারও একটি বড় সুযোগ।

ম্যাচটির সম্ভাব্য একাদশ ও দলীয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দুই শিবিরেই ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্স কিছুটা ভালো হওয়ায় তারা সম্ভবত নিজেদের জয়ী একাদশটিই অপরিবর্তিত রাখতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষে শোয়েব মালিকের সাম্প্রতিক ফর্ম ভালো না থাকায় তার পরিবর্তে হারিস সোহেলকে একাদশে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া হাসান আলীর অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সের কারণে তার জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন তরুণ পেসার মোহাম্মদ হাসনাইন। সব মিলিয়ে লর্ডসের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে দুই দলই নিজেদের সেরা একাদশ মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।

লর্ডসের ঐতিহাসিক উইকেটের চরিত্র ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ম্যাচটি ব্যাটারদের জন্য বেশ অনুকূল হতে পারে। গত কয়েক দিনে উইকেটের সবুজ আভা অনেকটাই কমে গেছে এবং ম্যাচের সময় এটি একটি সমতল উইকেটে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে দুই দলেরই দুর্বলতা থাকায় টাস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। খেলার দিন আবহাওয়া মনোরম থাকার কথা থাকলেও ইংল্যান্ডের আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে যেকোনো সময় বৃষ্টির বাগড়া পড়ার আশঙ্কাও সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।