ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাই কেম এক্সপো Logo সাগরে গভীর নিম্নচাপ, তিন সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত Logo রাজমিস্ত্রি থেকে ‘হ্যাকিং সম্রাট’, দলে আছেন পুলিশ সদস্যও Logo উখিয়ায় সমুদ্রসৈকত থেকে তিন অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার Logo তরুণদের নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতিযোগিতা Logo ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে রাশিয়া Logo হোটেলে সরবরাহের জন্য গোপনে ১৩ ঘোড়া জবাই, ৯ জনের কারাদণ্ড Logo ওসির ব্যতিক্রমী বিদায়, কেউ দিলেন গাছের লাউ, কেউ আনলেন দেশি মুরগি Logo আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী Logo রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল

রাজমিস্ত্রি থেকে ‘হ্যাকিং সম্রাট’, দলে আছেন পুলিশ সদস্যও

নাটোরে অভিনব কায়দায় সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল প্রতারণা চালিয়ে যাওয়া একটি চক্রের মূলহোতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে চক্রের প্রধান হিসেবে পরিচিত ওহিদুল মোল্লা নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি মাত্র কয়েক বছর আগেও রাজমিস্ত্রি ও ইজিবাইক চালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয়ভাবে তাঁকে হ্যাকিং চক্রের হোতা বা গুরু হিসেবে মানতেন সহযোগীরা। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ কর্মকাণ্ড গোপন রাখতে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া এলাকায় পদ্মা নদীর ধারে একটি দুর্গম বাড়িকে আস্তানা বানিয়েছিলেন ওহিদুল। বাড়িটির চারপাশ ও ভেতরে কুড়িটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতেন তিনি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হওয়ার জন্য সেখানে বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। এছাড়া কবুতরের ঘরের আড়ালে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত থাকার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

এই চক্রের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্যের জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্যও বেরিয়ে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. আলামিন নামের এক পুলিশ কনস্টেবল রয়েছেন, যিনি রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে কর্মরত ছিলেন। হ্যাকিং ও ডিজিটাল প্রতারণার নানা কৌশলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সর্বস্বান্ত করার এই চক্রে একজন পুলিশ সদস্যের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ওই আস্তানা থেকে সাতটি মুঠোফোন ও ৬৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়, যা দিয়ে মূলত হ্যাকিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। অভিযান চালিয়ে ওহিদুল ও পুলিশ সদস্য আলামিনসহ মোট ছয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রাতেই তাদের জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

জনপ্রিয়

বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাই কেম এক্সপো

রাজমিস্ত্রি থেকে ‘হ্যাকিং সম্রাট’, দলে আছেন পুলিশ সদস্যও

প্রকাশিত ১০:০০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোরে অভিনব কায়দায় সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল প্রতারণা চালিয়ে যাওয়া একটি চক্রের মূলহোতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে চক্রের প্রধান হিসেবে পরিচিত ওহিদুল মোল্লা নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি মাত্র কয়েক বছর আগেও রাজমিস্ত্রি ও ইজিবাইক চালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয়ভাবে তাঁকে হ্যাকিং চক্রের হোতা বা গুরু হিসেবে মানতেন সহযোগীরা। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ কর্মকাণ্ড গোপন রাখতে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া এলাকায় পদ্মা নদীর ধারে একটি দুর্গম বাড়িকে আস্তানা বানিয়েছিলেন ওহিদুল। বাড়িটির চারপাশ ও ভেতরে কুড়িটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতেন তিনি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হওয়ার জন্য সেখানে বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। এছাড়া কবুতরের ঘরের আড়ালে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত থাকার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

এই চক্রের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্যের জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্যও বেরিয়ে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. আলামিন নামের এক পুলিশ কনস্টেবল রয়েছেন, যিনি রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে কর্মরত ছিলেন। হ্যাকিং ও ডিজিটাল প্রতারণার নানা কৌশলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সর্বস্বান্ত করার এই চক্রে একজন পুলিশ সদস্যের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ওই আস্তানা থেকে সাতটি মুঠোফোন ও ৬৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়, যা দিয়ে মূলত হ্যাকিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। অভিযান চালিয়ে ওহিদুল ও পুলিশ সদস্য আলামিনসহ মোট ছয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রাতেই তাদের জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।