ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল Logo আপনার শিশু নিখোঁজ হলে বা হারিয়ে গেলে কী করবেন? Logo গাজীপুরে ট্রাকের সঙ্গে রিকশার সংঘর্ষে তিনজন নিহত Logo রাবিতে র‍্যাগিংয়ের দায়ে বহিষ্কারসহ ৯৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা Logo যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রথম দিনেই ১০ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: মাহদী আমিন Logo গোবিপ্রবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের নবীনবরণে প্রতিমন্ত্রী নুর Logo হাবিপ্রবির আইআরটি’র নতুন পরিচালক অধ্যাপক ড. মারুফ আহমেদ Logo হাবিপ্রবির ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজরি সার্ভিসের পরিচালক হলেন অধ্যাপক ড. শরীফ মাহমুদ Logo হাবিপ্রবির পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের নতুন ডিন অধ্যাপক ড. হাসানুজ্জামান Logo নোবিপ্রবিতে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল

মাদ্রাসা শিক্ষায় কোরআনে হাফেজ হওয়ার পথ মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কঠিন পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন ওহিদুল ইসলাম। পেটের টানে প্রথমে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে জীবন চালানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন রিকশা চালানো। তবে অভাবের তাড়নায় ক্লান্ত এই যুবকের জীবনে কয়েক বছর আগে বড় ধরনের এক মোড় আসে, যখন তিনি জড়িয়ে পড়েন সাইবার অপরাধ বা হ্যাকিংয়ের অন্ধ দুনিয়ায়। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এই অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে আসেন।

প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় শিক্ষা বা কারিগরি ডিগ্রি না থাকলেও সহজাত বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে ওহিদুল অল্পদিনেই হ্যাকিংয়ের বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেন। সাধারণ পেশার আড়ালে তিনি গড়ে তোলেন সাইবার অপরাধের এক সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ পরিচালনা করা হতো। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ জীবনযাপন করলেও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা সম্পত্তির পাহাড় গড়তে সক্ষম হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অপরাধের এই রাজত্ব গড়ে তুলতে ওহিদুল অত্যন্ত সুকৌশলী ও চতুরতার পরিচয় দিয়েছিলেন যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়। রিকশাচালক পরিচয়ের আড়ালে তার এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি স্থানীয়দের পাশাপাশি গোয়েন্দাদেরও অবাক করে দেয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে একজন সাধারণ পরিশ্রমী মানুষ অপরাধের মাধ্যমে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে পারে, ওহিদুলের এই ঘটনাটি তার এক অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

বর্তমানে এই সাইবার অপরাধীর সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ও তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং এই চক্রটি কীভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষতি সাধন করছিল, তা উদঘাটনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধ জগতের এই চাঞ্চল্যকর উত্থানের ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয়

রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল

রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল

প্রকাশিত ০৮:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদ্রাসা শিক্ষায় কোরআনে হাফেজ হওয়ার পথ মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কঠিন পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন ওহিদুল ইসলাম। পেটের টানে প্রথমে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে জীবন চালানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন রিকশা চালানো। তবে অভাবের তাড়নায় ক্লান্ত এই যুবকের জীবনে কয়েক বছর আগে বড় ধরনের এক মোড় আসে, যখন তিনি জড়িয়ে পড়েন সাইবার অপরাধ বা হ্যাকিংয়ের অন্ধ দুনিয়ায়। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এই অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে আসেন।

প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় শিক্ষা বা কারিগরি ডিগ্রি না থাকলেও সহজাত বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে ওহিদুল অল্পদিনেই হ্যাকিংয়ের বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেন। সাধারণ পেশার আড়ালে তিনি গড়ে তোলেন সাইবার অপরাধের এক সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ পরিচালনা করা হতো। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ জীবনযাপন করলেও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা সম্পত্তির পাহাড় গড়তে সক্ষম হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অপরাধের এই রাজত্ব গড়ে তুলতে ওহিদুল অত্যন্ত সুকৌশলী ও চতুরতার পরিচয় দিয়েছিলেন যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়। রিকশাচালক পরিচয়ের আড়ালে তার এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি স্থানীয়দের পাশাপাশি গোয়েন্দাদেরও অবাক করে দেয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে একজন সাধারণ পরিশ্রমী মানুষ অপরাধের মাধ্যমে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে পারে, ওহিদুলের এই ঘটনাটি তার এক অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

বর্তমানে এই সাইবার অপরাধীর সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ও তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং এই চক্রটি কীভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষতি সাধন করছিল, তা উদঘাটনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধ জগতের এই চাঞ্চল্যকর উত্থানের ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।