বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ কক্সবাজার উপকূলকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে উত্তর-পশ্চিম ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত এই নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, নিম্নচাপটি ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এর প্রভাবেই উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠলেও দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে তা ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে নিরাপদে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় থাকায় বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দেশের রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় তারতম্য দেখা যেতে পারে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা সামান্য কমলেও পরবর্তীতে তা আবার বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে, যা আবহাওয়া পরিবর্তনের এই গতিপ্রকৃতিকেই নির্দেশ করে।


































