নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনার দুই দিন পর একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীর প্রবল স্রোতে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রাখা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সজীব, সামিনা ও শিশু সামিন। এর আগে দুর্ঘটনার দিনই রায়েশা বেগম নামের আরেক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদীর তলদেশ থেকে ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর মরদেহগুলো পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেগুলোকে নিজ গ্রাম কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার পর স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এই নৌ দুর্ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামের আরও একজন ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করার জন্য নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।

































