ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪ Logo ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪ Logo নারায়ণগঞ্জে দিনে-দুপুরে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি, ৮ ভরি স্বর্ণ ও ২০০ ভরি রুপা লুট Logo পুলিশ সেজে যাত্রীকে জরিমানা, অর্থ না পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা Logo শাসন করে চড় মেরেছিলেন ছেলেকে, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার Logo পুলিশের কেউ কেউ ফ্যাসিবাদীদের তথ্য দিচ্ছেন, রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৪ জনের ৩ মরদেহ উদ্ধার, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন Logo জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন উপাচার্য Logo কয়েক দশক ধরে ছিলেন বন্ধু, একটি ডিএনএ পরীক্ষা জানালো তারা বোন Logo শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চাকরি, পদ ১৫

পুলিশ সেজে যাত্রীকে জরিমানা, অর্থ না পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা

ভারতের বিহারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনের বিশেষ কামরায় উঠে সাধারণ ও শ্রমজীবী যাত্রীদের টার্গেট করে এই অপরাধ চালাত রোহিত তিওয়ারি নামের এক যুবক। নিজেকে কখনো পুলিশ, কখনো রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বা এসটিএফের কর্মকর্তা দাবি করে সে বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করত। কেউ তার এই অবৈধ দাবির প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরের মুখোমুখি হতে হতো।

এই চক্রের শিকার হন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ নিতিন কুমার, যিনি সম্প্রতি একটি বিশেষ ট্রেনে করে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ট্রেন চলাকালীন সময়ে ধূমপানের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে জোরপূর্বক ট্রেন থেকে নামিয়ে নেয় ওই প্রতারক। পরবর্তীতে বক্সার স্টেশনের কাছাকাছি এলাকা থেকে নিতিনের ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে ১০ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার রুপি পাঠানো হলেও পরদিন আরও ২০ হাজার রুপি চাঁদা দাবি করা হলে তাদের সন্দেহ জাগে।

পরিবারের লোকজনের এমন অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তারা দ্রুত বিষয়টি বক্সার রেলওয়ে থানাকে অবহিত করেন এবং পুলিশের সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রোহিত তিওয়ারিকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আরা ও জগজীবন হল্ট স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন এলাকা থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি নিখোঁজ নিতিনের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চাহিদামতো চাঁদার টাকা আদায় করতে না পেরে রোহিত ওই যুবককে চলন্ত ট্রেন থেকে বাইরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত রোহিতের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি প্রায় পঁচিশ মাস কারাভোগ করেছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পর তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ তার কাছ থেকে অন্য এক ব্যক্তির মানিব্যাগসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করেছে।

জনপ্রিয়

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

পুলিশ সেজে যাত্রীকে জরিমানা, অর্থ না পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা

প্রকাশিত ০২:০০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের বিহারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনের বিশেষ কামরায় উঠে সাধারণ ও শ্রমজীবী যাত্রীদের টার্গেট করে এই অপরাধ চালাত রোহিত তিওয়ারি নামের এক যুবক। নিজেকে কখনো পুলিশ, কখনো রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বা এসটিএফের কর্মকর্তা দাবি করে সে বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করত। কেউ তার এই অবৈধ দাবির প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরের মুখোমুখি হতে হতো।

এই চক্রের শিকার হন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ নিতিন কুমার, যিনি সম্প্রতি একটি বিশেষ ট্রেনে করে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ট্রেন চলাকালীন সময়ে ধূমপানের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে জোরপূর্বক ট্রেন থেকে নামিয়ে নেয় ওই প্রতারক। পরবর্তীতে বক্সার স্টেশনের কাছাকাছি এলাকা থেকে নিতিনের ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে ১০ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার রুপি পাঠানো হলেও পরদিন আরও ২০ হাজার রুপি চাঁদা দাবি করা হলে তাদের সন্দেহ জাগে।

পরিবারের লোকজনের এমন অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তারা দ্রুত বিষয়টি বক্সার রেলওয়ে থানাকে অবহিত করেন এবং পুলিশের সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রোহিত তিওয়ারিকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আরা ও জগজীবন হল্ট স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন এলাকা থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি নিখোঁজ নিতিনের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চাহিদামতো চাঁদার টাকা আদায় করতে না পেরে রোহিত ওই যুবককে চলন্ত ট্রেন থেকে বাইরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত রোহিতের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি প্রায় পঁচিশ মাস কারাভোগ করেছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পর তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ তার কাছ থেকে অন্য এক ব্যক্তির মানিব্যাগসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করেছে।