ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নারায়ণগঞ্জে দিনে-দুপুরে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি, ৮ ভরি স্বর্ণ ও ২০০ ভরি রুপা লুট Logo পুলিশ সেজে যাত্রীকে জরিমানা, অর্থ না পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা Logo শাসন করে চড় মেরেছিলেন ছেলেকে, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার Logo পুলিশের কেউ কেউ ফ্যাসিবাদীদের তথ্য দিচ্ছেন, রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৪ জনের ৩ মরদেহ উদ্ধার, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন Logo জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন উপাচার্য Logo কয়েক দশক ধরে ছিলেন বন্ধু, একটি ডিএনএ পরীক্ষা জানালো তারা বোন Logo শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চাকরি, পদ ১৫ Logo ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশ Logo ঝিনাইদহে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পড়ে নারী যাত্রী নিহত

মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৪ জনের ৩ মরদেহ উদ্ধার, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনার দীর্ঘ দুই দিন পর একই পরিবারের তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিহতরা হলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের হেলাল মিয়ার তিন সন্তান সামিয়া, সজীব ও শামীম। এর আগে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের বহনকারী ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। সেই সময় ট্রলারে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে রাইসা বেগম নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হয়। অবশেষে সম্প্রতি ভোরে মেঘনা নদীর বুকে সামিয়া, সজীব ও শামীমের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো শনাক্ত করেন এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে সেগুলো নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হলেও তাদের বাবা হেলাল মিয়ার কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে তিন ভাইবোনের মরদেহ শ্রীমদ্দি গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে এবং শেষবারের মতো তাদের দেখতে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় জমান। পরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে সজীব ও শামীমের জানাজা শেষে তাদের চরিত্রকোনা কবরস্থানে দাফন করা হয়। অপরদিকে সামিয়ার জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে স্থানীয় কালিকাপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এই শোকাবহ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে হোমনা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবীন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম নিহতের বাড়িতে যান। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকার্ত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। একই পরিবারের তিন সন্তানের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে দিনে-দুপুরে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি, ৮ ভরি স্বর্ণ ও ২০০ ভরি রুপা লুট

মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৪ জনের ৩ মরদেহ উদ্ধার, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত ০১:১৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনার দীর্ঘ দুই দিন পর একই পরিবারের তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিহতরা হলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের হেলাল মিয়ার তিন সন্তান সামিয়া, সজীব ও শামীম। এর আগে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের বহনকারী ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। সেই সময় ট্রলারে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে রাইসা বেগম নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হয়। অবশেষে সম্প্রতি ভোরে মেঘনা নদীর বুকে সামিয়া, সজীব ও শামীমের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো শনাক্ত করেন এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে সেগুলো নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হলেও তাদের বাবা হেলাল মিয়ার কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে তিন ভাইবোনের মরদেহ শ্রীমদ্দি গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে এবং শেষবারের মতো তাদের দেখতে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় জমান। পরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে সজীব ও শামীমের জানাজা শেষে তাদের চরিত্রকোনা কবরস্থানে দাফন করা হয়। অপরদিকে সামিয়ার জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে স্থানীয় কালিকাপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এই শোকাবহ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে হোমনা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবীন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম নিহতের বাড়িতে যান। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকার্ত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। একই পরিবারের তিন সন্তানের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।